বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬

তিন মামলায় রক্ষাকবচ, স্বস্তি অভিষেকের

 তিন মামলায় রক্ষাকবচ, স্বস্তি অভিষেকের

কলকাতা, ৩০ জুলাই- কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বানীপুর, কালীতলা, বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়ায় মামলায় কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

            বাংলায় পালাবদলের পরেই একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। সেবাশ্রয় থেকে ডিজে মামলা, বিধায়কদের সই জাল বা বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় অভিষেকের নাম জড়িয়ে পড়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা আসনে তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অভিজিৎ দাস ওরফে ববিও অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ চান অভিষেক। আর সেইসব মামলাতেই রক্ষাকবচ চান ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ। বৃহস্পতিবার রক্ষাকবচ দিলেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায় রাশ টানা নিয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ আগস্ট।

            অভিষেকের আইনজীবীর তরফে সওয়াল, শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকার সময় তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্ট। ভবিষ্যতে আদালতকে না জানিয়ে যাতে কোনও এফআইআর দায়ের না-করা হয়, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এ বার অভিষেকের ক্ষেত্রেও তেমন নির্দেশ দেওয়া হোক বলে আবেদন জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সে সময় রাজ্য সরকার বলেনি যে প্রত্যেক এফআইআরের জন্য আলাদা আলাদা মামলা করতে হবে, যেমনটা বর্তমান রাজ্য সরকার বলেছে। তাই সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। তা ছাড়া অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের ১১টির মধ্যে তিনটি মামলার নথি আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। সেই কারণে আপাতত ভবানীপুর, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসবি রাজু জানিয়েছেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি একাধিক এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছেন। আইনে এ ভাবে এত এফআইআর একসঙ্গে একটি আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। 

            অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরনো অভিযোগ নিয়ে এখন মামলা করা হচ্ছে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর সওয়াল, পুরনো অভিযোগ নিয়ে এফআইআর হলে অসুবিধা কোথায়? আগে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এফআইআর না-ও দায়ের হয়ে থাকতে পারে। এফআইআর দেরিতে করা হয়েছে বলে বাতিল করতে হবে, এই যুক্তি ঠিক নয়। দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পরে  বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, তিনটি থানা কালীতলা, বিষ্ণুপুর, ভবানীপুরে—অভিষেকের বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *