কেউ ১০ শতাংশ, আবার কাউকে দিতে হবে ১২.৫ শতাংশ, ৬০ টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আমেরিকার
ওয়াশিংটন, ২৪ জুলাই : প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা স্থির করতে বুধবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকের দু’দিনের মধ্যেই এবার ভারত, পাকিস্তান সহ ৬০ টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর কথা জানানো হয়েছে আমেরিকার তরফে।
বৃহস্পতিবারই ফেডেরাল রেজিস্টার নোটিসের মাধ্যমে এই শুল্কের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তা কার্যকর হবে। মার্কিন সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আমেরিকায় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে কোনও দেশকে ১০ শতাংশ, কোনও দেশকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। ভারত রয়েছে প্রথম তালিকায়। ইজরায়েলের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানো হয়েছে। চিনের সমান শুল্ক দিতে হবে এই দেশকে। আমেরিকার বন্ধু দেশ বলে পরিচিত ইজরায়েল।
এর কারণ হিসেবে আমেরিকা একে বলছে ‘বলপূর্বক শ্রম’ শুল্ক। অর্থাৎ, বলপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের উপর শুল্ক নেবেন ট্রাম্প। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, ‘জোর করে আদায় করা শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমেরিকায় আমদানি করা হয় না। প্রায় এক শতাব্দী ধরে তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং কঠোর ভাবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।’ যে সমস্ত দেশের সঙ্গে আমেরিকা বাণিজ্য করে, তাদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত নিয়ম বাস্তবায়নে শিথিলতার অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। গ্রিয়ারের দাবি, ‘আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদের এই পদক্ষেপ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের এই পদক্ষেপ এমন একটি পরিস্থিতিকে সংশোধন করবে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশ্বের সর্বত্র শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আমেরিকার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে কিছু কিছু পণ্যকে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।