কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি, নিট কান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতার রাজপথ
কলকাতা, ২৪ জুলাই- নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার রাজপথ। এই কান্ডের প্রতিবাদে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। আর সেই ইস্যুকে সামনে রেখে শুক্রবার ধর্মতলা থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সেই মিছিলে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরাও। আর মিছিল ধর্মতলা পৌঁছলেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা।
নিট পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরানো এবং শিক্ষা কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তার আগে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই কান্ডকে সামনে রেখে বাংলায় কোনওধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শুক্রবার সময়মতোই শুরু হয় মিছিল। দীর্ঘদিন পর কলকাতার রাজপথে ফের দেখা গিয়েছে এক জমজমাট, বাঁধভাঙা ছাত্র মিছিল। অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনের সমর্থকরা পুলিশের কাছে আলাদা মিছিলের অনুমতি চেয়েও পাননি। কিন্তু অনুমতি না মিললে কী হবে? শেষ পর্যন্ত বামেদের ডাকা এই বিশাল মিছিলেই এসে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল কলকাতার ‘ককরোচ’রা।
সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন আন্দোলনকে সমর্থন জানানো এবং কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক গলদের প্রতিবাদেই আয়োজিত হয়েছিল এই কর্মসূচি। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল যত এগোতে থাকে, ততই তাতে যোগ দিতে থাকেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের কারও মুখে ব্যাটম্যানের মুখোশ, কারও হাতে সরকারকে চরম কটাক্ষ করে পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে যা চলছে, তা শুধু রাজধানী শহরের বিষয় নয়—গোটা দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের লড়াই। সেই কারণেই কলকাতার রাজপথে নেমে সোচ্চার হয়েছেন তারা।
দিল্লির আন্দোলনের সরাসরি আঁচ যে কলকাতায় এইভাবে এসে পড়বে, তা হয়তো পুলিশ-প্রশাসনও বুঝে উঠতে পারেনি। মিছিল ধীরে ধীরে ধর্মতলা পৌঁছতেই পুলিশ সেই মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে। তাতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ আটকাতে গেলেই পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ছুঁড়তে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পাল্টা লাঠি হাতে ছুটে যান পুলিশকর্মীরা। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। তাতে দমেননি আন্দোলনকারীরা। দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা চত্ত্বর। বেশ কিছু সময় পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। আজকের এই মিছিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বাংলায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপকে কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’