হিংসা বরদাস্ত নয়, কড়া হুঁশিয়ারি জ্ঞানেশের
কলকাতা, ৬ মে– নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকে বাংলার নানা প্রান্তে অশান্তির ঘটনা সামনে আসছে। এবার পশ্চিমবঙ্গে সেই ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কোথাও কোনও ভাঙচুর বা হিংসার ঘটনা ঘটলেই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। জেলাশাসক ও পুলিশকর্তাদেরও নজরদারি চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের ফলপ্রকাশ হতেই কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়, তো কোথাও আবার তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল ভোট-পরবর্তী নানা অশান্তির ঘটনা। আবার বিজেপির দু’জন কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসায় কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে আগেই বার্তা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন।
ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া, নানুর-সহ রাজ্যের নানা জায়গায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে বিজেপি-কে। তবে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, তারা এই ধরনের হিংসার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। যারাই এমন করছেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বুধবার কড়া বার্তা দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে পুলিশ কমিশনার অনুরোধ করেছেন, কেউ যেন কোনও ভাবেই গুজবে কান না দেন। তিনি জানান, নির্বাচন পর্ব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে এবং মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ যেন কোনও ভাবেই কলুষিত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। এদিনের বৈঠক থেকে মিছিল এবং বিজয় র্যালি নিয়েও পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে প্রতিটি মিছিল অনুমতির ভিত্তিতেই হয়েছে। এখন থেকে বিনা অনুমতিতে কোনও সভা বা মিছিল করলে পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে ‘জেসিবি’ নিয়ে ইদানীং যে ধরনের উল্লাস প্রদর্শন দেখা যাচ্ছে, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মিছিলে জেসিবি ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি যেসব জেসিবি মালিকরা এই কাজের জন্য গাড়ি ভাড়া দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।’