পদত্যাগপত্র তিনি দেবেন না, অনড় মমতা
কলকাতা, ৬ মে – মঙ্গলবারই সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কোনওভাবেই পদত্যাগপত্র দেবেন না। কারণ ভোট চুরি করে বিজেপি জিতেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবারও নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেন তিনি। এদিন জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী। সাফ জানিয়ে দেন, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক।” সেই সঙ্গে ভোটের ফল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন বলেও জানিয়ে দেন মমতা।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের সামনে থেকে বিশেষ নিরাপত্তা আজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশাল স্ক্যানিং মেশিনও সরানো হয়েছে। সকালেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে থেকে সরানো হয়েছিল ব্যারিকেড। বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও কাঁটছাঁট হবে না, এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন রাজ্যের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। মমতা এবং অভিষেকের অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের এই ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। এমনকি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দরজায় কড়া নাড়তেও পিছপা হবেন না তিনি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি করে বিজেপিকে জেতানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, লড়াই ছিল সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কমিশনের কর্তা জ্ঞানেশ কুমার হলেন এই ঘটনার আসল ভিলেন।”
বৈঠকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলীয় অন্তর্ঘাতকেও দায়ী করেছেন তৃণমূল নেত্রী। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছে, তাদের তালিকা তৈরি করে জমা দিতে হবে। তবে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, একসময় তিনি একাই লড়াই করে দল দাঁড় করিয়েছিলেন, এবারও ঘুরে দাঁড়াবেন। আগামী সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিশ্রমের প্রশংসা করে গোটা দলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে সম্মান জানান মমতা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে অভিষেক দলের কাজে আরও সক্রিয় থাকবেন। তিনি নিজে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে আইনজীবী হিসেবে আদালতের মামলাগুলি তদারকি করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “নৈতিকভাবে আমি ওদের হারিয়ে দিয়েছি। জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, নেতাজি-গান্ধীজীর মূর্তিতে গেরুয়া আবির মাখানো হচ্ছে – এসব বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।”