শনিবার | ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্র কিংবা পাহাড়— ঘুরতে যাওয়াতেই আনন্দ

 সমুদ্র কিংবা পাহাড়— ঘুরতে যাওয়াতেই আনন্দ

শুভস্মিতা মুখোপাধ্যায় (অভিনেত্রী)

মেগা সিরিয়ালে কাজ শুরু করার পর থেকেই পুজোর সময় কলকাতায় থাকা হয় না। আসলে, সারা বছরে লম্বা ছুটি পাওয়ার সুযোগ খুব একটা মেলে না। তাই পুজোর ছুটিটাকেই কাজে লাগিয়ে বেড়িয়ে পড়ি ঘুরতে। এ বছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। কোথায় যাচ্ছি, সেই খবর অবশ্য আমার দর্শকরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই পেয়ে যান। ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হিসেবে সমুদ্র আমার বরাবরই খুব পছন্দের। তবে আমার কাছে আসল বিষয়টা হল ঘুরতে যাওয়া। একঘেয়েমি কাটাতে জায়গা বদল করাটা বেশ ভালো লাগে। তাই চেষ্টা করি, এক বছর পাহাড়ে গেলে পরের বছর সমুদ্রের কাছে যেতে। এ ভাবেই ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে একটা নতুনত্ব খুঁজে পাই। পুজোর ফ্যাশন নিয়েও আমার আলাদা কোনও পরিকল্পনা থাকে না। আমার কাছে পুজো মানেই ছুটি উপভোগ করা, নতুন জায়গা দেখা আর নিজের মতো করে সময় কাটানো। তবে পুজো এলেই ছোটোবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে। আমার দিদার বাড়িতে একসময় দুর্গাপুজো হতো। বাড়ির পুজোর আনন্দই ছিল আলাদা। সব ভাই-বোন একসঙ্গে হতাম, আড্ডা দিতাম, হইহুল্লোড় করতাম। পুজোর সময় ছাড়া তো সেভাবে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়াই যেত না। এখন আর সেই পুজো হয় না। গত দু’-তিন বছর ধরে অঞ্জলিও দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তবু পুরোনো দিনের সেই স্মৃতিগুলো আজও খুব মনে পড়ে। এবার পুজোয় খাওয়া-দাওয়া নিয়েও কোনও বিধিনিষেধ রাখতে চাই না। এত দিন ওজন বাড়ার চিন্তা করে অনেক কিছুই হিসেব করে খেতে হয়েছে। এখন অন্তত কয়েকটা দিন মন খুলে খেতে পারব। কারণ, ‘লক্ষ্মীঝাঁপি’ ধারাবাহিকের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। যদিও ধারাবাহিক শেষ হওয়ার খবরটা হঠাৎ করেই পেয়েছিলাম, তাই মনটা একটু খারাপ। একটা কাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকলে তার প্রতি আলাদা মায়া তৈরি হয়। চরিত্র, সহ-অভিনেতা এবং গোটা টিমের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই শেষটা মেনে নেওয়া সহজ নয়। তবে এটাই তো নিয়ম— যে কোনও শুরুরই একদিন শেষ হয়। পুজোর ছুটি কাটিয়ে আবার নতুন করে ডায়েট শুরু করতে হবে।

সাক্ষাৎকার- আনন্দিতা সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *