ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে জল্পনা বাড়ালেন দুই ‘বেসুরো’ এনসিপিআই সাংসদ
কলকাতা, ৮ আগস্ট– নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এবার নতুন করে জল্পনা বাড়ালেন দুই ‘বেসুরো’ এনসিপিআই সাংসদ। শুক্রবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে হাজির ছিলেন এই দুই সাংসদ খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খান। তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন দুজনে। তারপরেই সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
আবু তাহের বলেন, ‘কাগজে-কলমে এনসিপিআই কিন্তু এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক নয়। এনসিপিআই নামে ডাকলে অবশ্যই যেতাম, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না।’ বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তিন সংখ্যালঘু সাংসদ খলিলুর, আবু তাহের এবং ইউসুফ পাঠান বেসুরো অবস্থান নিয়ে চলছেন। দিল্লিত এনডিএ-র বৈঠকে ডাক পেয়েও যাননি। অন্য এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে তাদের দেখা যায়নি সেখানে। তারপরেই তড়িঘড়ি এই তিন সাংসদকে নিয়ে বিশেষ একটি বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঠিক তারপরের দিন প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠকে অন্য এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে ছিলেন এই তিনজন। সেই বৈঠকে মসজিদে মাইক খুলে নেওয়া থেকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে সরব হয়েছে এই তিনজন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে দুই সাংসদ স্পষ্টভাবে জানালেন, ভবিষ্যতে তারা এই দলে থাকবেন কিনা তা সময় বলবে।
সাংবাদিক বৈঠকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাংসদ আবু তাহের বলেন, লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত তাদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) সাংসদ হিসেবেই ডাকছেন। যখন তারা সংসদে বক্তব্য পেশ করছেন, তাদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই উল্লেখ করা থাকছে। পাশাপাশি শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর মুর্শিদাবাদের তৃণমূলত্যাগী সাংসদ আবু তাহের জানান, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ তারা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এসআইআর-এ ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মাত্র সাত লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। বাকি ২০ লক্ষ মানুষ কোনও আবেদন করেননি। আমরা বলেছি, গ্রামগঞ্জের মানুষ। অনেকেই প্রথাগত শিক্ষা পাননি, কাগজপত্র বোঝেন না। সকলের নামই ভোটার তালিকায় তুলে দিতে হবে। এ ভাবে বৈধ ভোটারদের অযথা হয়রানি হচ্ছে। ২০ লক্ষ মানুষের আবেদনের সময় আরও বাড়াতে হবে। তাঁদের আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা প্রয়োজনে আদালতে যাব মুর্শিদাবাদের পাঁচ লক্ষ মানুষের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার তিনি করবেন।’
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সে বিষয়েও শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দুই সংখ্যালঘু সাংসদ। আবু তাহের বলেন, ‘মাইক নিয়ে যেটা হচ্ছে, সেটা পীড়াদায়ক। আমরা আবেদন করেছি, যেন এটা না হয়। আমরা সরকারি গাইডলাইন মানতে রাজি আছি। কিন্তু নমাজ পড়ার সময় যেন কোনও সমস্যা না হয়, সরকারকে সেটা দেখতে হবে। ধৈর্য ধরে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’ তবে খলিলুরদের এই বৈঠককে তীব্র কটাক্ষ করে কালীঘাটপন্থী নেতা তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওঁরা মোদির বিরুদ্ধে ভোট চেয়ে জিতেছিলেন। তার পরে কেন মোদীর কাছেই যেতে হচ্ছে বুঝতে পারছি না। যিনি ওঁদের ‘শুক্রবারি’ বলে অপমান করলেন, তার কাছেই কেন ছুটতে হচ্ছে? গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশ সেরেছেন। আজ দু’জন গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লাঞ্চ করেছেন। এ বার হয়তো ডিনার করতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। ওটাই বাকি আছে!’