শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬

হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েও নিজের অবস্থান থেকে সরলেন ট্রাম্প

 হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েও নিজের অবস্থান থেকে সরলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ১২ জুন : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, ইরানে জোরদার হামলা চালানো হবে। এমনকি, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেলের ভান্ডারও আমেরিকা দখল করে নেবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েকঘণ্টার মধ্যে হঠাৎ করেই সেই অবস্থান থেকে সরে এলেন তিনি। ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেই এই অবস্থান থেকে তিনি সরে এসেছেন বলে ব্যাখ্যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

            তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিকিটো সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই রাতারাতি মতবদলের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি ফোন। রিপোর্টে দাবি, পাকিস্তান থেকে ফোন গিয়েছিল ট্রাম্পের কাছে। ফোন করেছিলেন সে দেশের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ ছাড়া কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ান ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করেছিলেন। দু’জন মার্কিন প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে এবং এক কূটনীতিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পলিটিকো।

            আসলে পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের আবহ তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল। কারণ, আমেরিকা জোরদার হামলা চালালেই ইরান তার পাল্টা জবাব দেবে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় ফের শুরু হয়ে যেত পুরোদমে যুদ্ধ, যা কোনও পক্ষেরই কাম্য নয়। কিন্তু তিনটি ফোনই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের বিষয়ে এঁদের কথায় ভরসা করা যায়। এমনকি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের উপরেও এই নেতাদের প্রভাব রয়েছে। তাই তাদের কথা শুনে এবং তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। আবার ইজরায়েলি সূত্র উল্লেখ করে রিপোর্টে দাবি, আপাতত শুধু হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন অবরোধ তোলার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। উভয় পক্ষই সে বিষয়ে একমত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *