বৃহস্পতিবার | ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনায় উঠে আসছে ত্রিপুরার ডুম্বুর জলাশয়, পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ‘নারকেল কুঞ্জ’!!

 ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনায় উঠে আসছে ত্রিপুরার ডুম্বুর জলাশয়, পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ‘নারকেল কুঞ্জ’!!

দৈনিক সংবাদ অনলাইন প্রতিনিধি :-কাশ্মীরের ডাল হ্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এক নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলাই জেলায় অবস্থিত ডুম্বুর জলাশয় একটি কৃত্রিম হ্রদ যা তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই জলাশয়ের মাঝে গড়ে ওঠা “নারকেল কুঞ্জ” নামক দ্বীপটি এখন কাশ্মীরের বিখ্যাত ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এর মনোরম দৃশ্য সবুজ প্রকৃতি এবং পরিযায়ী পাখির সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করছে এবং এটি ত্রিপুরার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। 

একটি প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের মেলবন্ধন ডুম্বুর জলাশয় ত্রিপুরার গন্ডাছড়া মহকুমায় অবস্থিত আমবাসা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং রাজধানী আগরতলা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। এই হ্রদটি ১৯৭০-এর দশকে গোমতি নদীর উপর ডুম্বুর বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ত্রিপুরাকে বন্যা থেকে রক্ষা করা এবং ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা। ৪১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদটি রাইমা ও সরমা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এবং এর আকৃতি তীরের মতো ছোট ড্রামের সাদৃশ্য যা শিবের “ডমরু” থেকে এর নামের উৎপত্তি। হ্রদের মাঝে ৪৮টি ছোট-বড় দ্বীপ রয়েছে যার মধ্যে নারকেল কুঞ্জ সবচেয়ে আকর্ষণীয়। 

প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি নারকেল কুঞ্জ হলো ডুম্বুর জলাশয়ের একটি দ্বীপ যা নারকেল গাছের সারি দিয়ে সাজানো। এই দ্বীপটি তার সবুজ শ্যামল পরিবেশ নীল জলরাশির সঙ্গে মিশে থাকা দৃশ্য এবং শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। নৌকায় চড়ে এই দ্বীপে পৌঁছানোর সময় জলাশয়ের চারপাশের সবুজ পাহাড়, ঘন বনভূমি, এবং পরিয়াজী পাখির কলতান যেন একটি স্বপ্নের জগৎ সৃষ্টি করে। সূর্যাস্তের সময় নারকেল কুঞ্জের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে যখন জলের উপর সূর্যের প্রতিফলন একটি সোনালি আভা ছড়ায়।নারকেল কুঞ্জের সৌন্দর্য কাশ্মীরের ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনীয় কারণ এটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয় বরং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে।

কাশ্মীরের ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনা কাশ্মীরের ডাল হ্রদ যা শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার ভাসমান বাগান, শিকারা নৌকা, এবং হিমালয়ের পটভূমিতে অপূর্ব দৃশ্যের জন্য বিশ্ববিদিত। এই হ্রদটি প্রায় ২৬ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং এর চারপাশে বোটহাউস, পদ্মবাগান, এবং সবুজ উপত্যকা রয়েছে। ডুম্বুর জলাশয়ের নারকেল কুঞ্জও একইভাবে নৌকাযাত্রা, সবুজ দ্বীপ এবং প্রাকৃতিক শান্তির সমন্বয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। যদিও ডাল হ্রদের তুলনায় ডুম্বুর জলাশয় ছোট তবুও এর ৪৮টি দ্বীপ এবং পরিযায়ী পাখির সমাগম এটিকে একটি অনন্য আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।নারকেল কুঞ্জের বিশেষত্ব হলো এর অপ্রকৃতিস্থ সৌন্দর্য এবং তুলনা মূলকভাবে কম পর্যটকের ভিড়। যদিও বর্তমানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ডাল হ্রদ যেখানে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত এবং পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত সেখানে নারকেল কুঞ্জ এখনও একটি শান্ত এবং অপেক্ষাকৃত অজানা গন্তব্য যা প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একটি আদর্শ স্থান।পর্যটন সম্ভাবনা ও সুবিধা ডুম্বুর জলাশয় এবং নারকেল কুঞ্জ পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় কার্যক্রম প্রদান করে। 

 হ্রদের শান্ত জলে নৌকাভ্রমণ পর্যটকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ। নারকেল কুঞ্জে পৌঁছানোর জন্য নৌকা এবং স্থল পথ মাধ্যম এবং এই যাত্রা নিজেই একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।পরিযায়ী পাখি শীতকালে হ্রদে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি দেখা যায় যা পাখি প্রেমীদের জন্য একটি বড় আকর্ষণ।

 প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে হ্রদের কাছে বিখ্যাত ‘পৌষ সংক্রান্তি মেলা’ অনুষ্ঠিত হয় যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি জীবন্ত প্রদর্শনী হ্রদে জল ক্রীড়ার সুবিধা রয়েছে যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের আকর্ষণ করে। নারকেল কুঞ্জের চারপাশের সবুজ পাহাড়, ঘন বন এবং দ্বীপগুলোর সমন্বয়ে একটি নয়নাভিরাম দৃশ্য সৃষ্টি হয় যা ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি স্বর্গ।চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের সুযোগ যদিও ডুম্বুর জলাশয় এবং নারকেল কুঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনা অপার তবুও এটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার পরিকল্পনা চলছে । পর্যটন পরিকাঠামো যেমন উন্নত রাস্তা থাকার জায়গা এবং গাইডেড ট্যুরের অভাব কিছুটা বাধা সৃষ্টি করছে। তবে ত্রিপুরা সরকার এই এলাকার পর্যটন উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নারকেল কুঞ্জে আরও পর্যটক-বান্ধব সুবিধা যেমন কটেজ রেস্তোরাঁ এবং ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প অধিক হারে চালু করা যেতে পারে।এছাড়া জল দূষণ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলাশয়ের জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং মাছের সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নারকেল কুঞ্জ ডুম্বুর জলাশয়ের এক নয়নাভিরাম অংশ পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানে পৌঁছানোর জন্য বেশ কয়েকটি পথ রয়েছে যা ভ্রমণকারীদের পছন্দ এবং সুবিধার ওপর নির্ভর করে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ডুম্বুর জলাশয়ের নারকেল কুঞ্জ ত্রিপুরার একটি লুকানো রত্ন যা কাশ্মীরের ডাল হ্রদের সঙ্গে তুলনীয় সৌন্দর্য ও শান্তি প্রদান করে। এর সবুজ দ্বীপ পরিযায়ী পাখি এবং নৌকাযাত্রার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের মনে এক অমলিন ছাপ ফেলে। ত্রিপুরা সরকার এবং স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে এই স্থানটি আরও উন্নত করা গেলে এটি শুধু ত্রিপুরার নয় বরং ভারতের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করতে পারে। নারকেল কুঞ্জের মায়াবী সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একটি অবশ্য ভ্রমণের গন্তব্য যা কাশ্মীরের ডাল হ্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *