রবিবার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাইবুনালে আবেদন করলেই ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই, স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের

 ট্রাইবুনালে আবেদন করলেই ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই, স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের

নয়াদিল্লি, ১৩ এপ্রিল- ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না, সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

            রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, ইতিমধ্যে ১৬ লক্ষ আবেদন করা হয়েছে। তাদের ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। কল্যাণের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ সুপ্রিম কোর্টের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।” তার উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সেই প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এটা অনুমতি দিই, তা হলে যাদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যাতে আপিল ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের উপর আরও বাড়তি চাপ পড়ে। আমাদের সামনে আর একটি আবেদনও রয়েছে, যেখানে আপিল প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি তোলা হয়েছে।’

শীর্ষ আদালতে এদিন মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাওয়ের মামলাটিরও শুনানি হয়। তার প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দেয়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের নিরাপত্তা কোনও ভাবেই প্রত্যাহার করা যাবে না। সোমবার ফের একবার রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানাল, “রাজ্য এবং নির্বাচন কমিশন – এই দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা কার্যত পিষ্ট হচ্ছেন।”

কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কেউ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এটি আবেগের বিষয়ও বটে।”  বিচারপতি বাগচী বলেন,  “যত ক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা ভোটের ফলের উপর তার বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়ছে, তত ক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।” যদি ১০ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত থাকেন এবং জয়ের ব্যবধান ১০ শতাংশের বেশি হয়— সে ক্ষেত্রে কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বাগচী। প্রধান বিচারপতি জানান, এটি শুধুই একটি তাত্ত্বিক আলোচনা। বিচারপতি বাগচীর কথায়, “যদি এই হার ৫ শতাংশের কম হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। আগে একজন প্রার্থীকে ট্রাইবুনালে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ কাউকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কিন্তু যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের কী হবে, সেই বিষয়টিও আমাদের মাথায় রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *