মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬

কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল শুরু হতেই আটকে দিল পুলিশ

 কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল শুরু হতেই আটকে দিল পুলিশ

কলকাতা, ১৩ অক্টোবর– পুজোর আবহে রাজ্যে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজন পড়লে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর এদিন সেই হুঁশিয়ারির বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল।

            পুলিশের ‘অনুমতিহীন’ তকমা সেঁটে মমতা তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল রাজাবাজারে শুরু হতেই তা আটকে দেওয়া হয়। তবে রুট আটকে দেওয়ার পরেও দমে না গিয়ে সেখানেই সভা শুরু করেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা। মিছিলের নেতৃত্বে থাকা কুণাল আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘যেভাবে কাল রাত থেকে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হুমকি দিয়েছে এবং পুলিশ নামিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে আমরা প্ররোচনায় পা দিইনি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল। দিল্লি ভয় পেয়েছে, ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার। আমরা ‘জ্ঞানেশ কুমার ভোট চোর, ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ স্লোগান দিয়েছি, তাতে আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে যারা এক পাও এগোতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারা আসলে কাপুরুষের রাজনীতি করছে।’

            মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তপ্ত দিল্লি। এসআইআর প্রক্রিয়া ও ভোটে কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে বিরোধী শিবির লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সেই বিক্ষোভে সামিল হয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর, সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ‘বিপুল প্রতিবাদ মিছিল’-এর ডাক দিয়েছিল মমতা তৃণমূল। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ, দিল্লিতে নেত্রীর ওপর পুলিশি ধরপাকড় এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই তা আটকে দেশ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। গতকাল শুভেন্দু অধিকারী এই মিছিল প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘বেরোতে দেব না। সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি, রাজাবাজার থেকে এক পা এগোতে দেব না। প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল ফোর্সও নামাতে বলেছি। বেরোতে দেব না। দুর্গাপুজোয় কোনও বিশৃঙ্খলা করতে দেব না।’ তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন বলেন, ‘গত পাঁচ মাসে বর্তমান শাসক দল আমাদের একটাও মিটিং-মিছিলের অনুমতি দেয়নি, প্রতিবারই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। গতকালই প্রশাসনিক প্রধানরা ঘোষণা করেছিলেন এক পাও এগোতে দেওয়া হবে না। দেখে মনে হচ্ছে ‘হল্লা’ চলেছে যুদ্ধে! সামান্য ছাত্র-যুবদের একটি মিছিল আটকাতে জলকামান ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে।’ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *