বৃহস্পতিবার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁধে ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান, বিধানসভায় তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

 কাঁধে ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান, বিধানসভায় তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর– বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাশ হয়ে গেল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত বিল (‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’)। আর সেখানেই এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরোক্ষে বামেদের তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নজিরবিহীন ভাষায় তোপ দাগলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’কে।

             মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জুটার সদস্যরা কবে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে। বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাদের, তাদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব – যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।’  তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত বিলের আসল গুরুত্ব শুরুতে বিরোধী ও অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন পরিস্থিতি ও সরকারের কঠোর অবস্থানের গতিপ্রকৃতি আঁচ করতে পেরে চারদিকে ‘চিড়বিড়’ শুরু হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষাণজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না। সনাতন ধর্মকে যারা কেবল কালচারাল মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।’

            চাকরি ও নিয়মকানুন নিয়ে ক্ষুব্ধ অধ্যাপকদের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যাদের এই সরকারি চাকরিতে এত অসুবিধা হচ্ছে, তারা চাকরি ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে পাকাপাকি হোলটাইমার হয়ে যান এবং নিউ মার্কেটে কৌটো হাতে চাঁদা তুলতে নেমে পড়ুন।’  সংশোধনী আইন অনুযায়ী, প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবেন আচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *