শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রামলীলা ময়দানের সভার আগে সিপিএম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর

 রামলীলা ময়দানের সভার আগে সিপিএম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর

গড়বেতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ অক্টোবর- এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার সভা থেকে বিরোধী ইন্ডি জোটকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গড়বেতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঁটাও’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একযোগে বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির নয়া সমীকরণ নিয়ে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তার কথায়, “এখন আন্টি আর বেবির মধ্যে ভাব ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আন্টি’ বলতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুঝিয়েছেন।

            বাম আর তৃণমূলকে এক সারিতে রেখে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কটাক্ষ, ‘যাহাই সিপিএম, তাহাই তৃণমূল।’ সিপিএমের জমানার পুরনো প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘এই গড়বেতায় তপন-শুকুর আমাকে হুমকি দিয়েছিল। বলেছিল, গড়বেতায় এলে আমার পা ভেঙে দেবে। আর আমি সুশান্ত ঘোষের চোখের সামনে সেদিন সভা করেছিলাম। আমাকে কেউ আটকাতে পারেনি।’

            লাল শাসনের আমলে গড়বেতা এলাকা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ঠ সরগরম ছিল। বাম আমলে ‘ছোট আঙারিয়া গণহত্যা’র ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল সেসময়ের রাজ্য রাজনীতি। ২০০১ সালে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক তৃণমূল কর্মী নিখোঁজ হয়ে যান। অভিযোগ উঠেছিল, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ওই তৃণমূল কর্মীদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। তারপর কংসাবতী নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে প্রচুর জল। রাজনীতিতেও একাধিক বাঁক এসেছে। সেই ঘটনার পর রাজ্যে দুটি সরকার বদলে গিয়েছে। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেমিলকে। ছোট আঙারিয়া গণহত্যার ফাইল ফের খোলা হবে। সেই হুঁশিয়ারিও দিলেন। তার হুঙ্কার, ‘ছোট আঙারিয়া থেকে সব কেসের ফাইল রিওপেন করব।’

            গড়বেতার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, এখানকার মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছেন। চোর তৃণমূলকে গড়বেতার মানুষ শূন্য করে দিয়েছে। তার অভিযোগ, তৃণমূল অনেক অত্যাচার করেছে। কাউকে ছাড়া হবে না। কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়েও হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মানুষ সিপিএম ও তৃণমূলকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেবে। ফলতা, রেজিনগর, নন্দীগ্রাম তিন আসনেই জিতেছে বিজেপি। এবার পুরভোটেও শূন্য পাবে তৃণমূল ও বামেরা। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভোটের সময় ডাক্তার প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই মামলার এফআইআরের কপিটা তাকে পাঠাতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মামলায় ক’জন গ্রেপ্তার হয়েছে, আর ক’জন হয়নি তা তিনি নিজে দেখবেন। তার কথায়, ‘যারা গ্রেফতার হয়নি তাদের চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *