বাংলাকে অখণ্ড রেখেই গোর্খা সমস্যার সমাধান, আশ্বাস শাহের
কালিয়াগঞ্জের রোড শোতে অমিত শাহ
গাজোল, মালদহ, ১৪ এপ্রিল – পশ্চিমবঙ্গকে অখণ্ড রেখেই গোর্খা সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান করবে কেন্দ্র, মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থেকে এমনই প্রতিশ্রুতি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তরবঙ্গের জন্য এইমস, আইআইটি থেকে শুরু করে পৃথক ক্যানসার হাসপাতালের মতো একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কোনও বিভাজনের রাস্তায় না গিয়ে বরং উন্নয়ন ও ঐক্যকে তুরুপের তাস করতে চাইল গেরুয়া শিবির।
পাহাড়ের রাজনীতিতে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নতুন কোনও ঘটনা নয়। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলির চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করেছে বিরোধীরা। এদিন সেইসব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে অমিত শাহের মন্তব্য, ‘বাংলাকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার একটি সাংবিধানিক সমাধান করা হবে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র দায়বদ্ধ।’ পাহাড়ের ভাবাবেগ রক্ষা এবং সমতলের মানুষের মন জয়, দুই লক্ষ্যেই এই কৌশলী অবস্থান নিলেন শাহ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শাহ জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস তৈরি করা হবে। পাশাপাশি গড়া হবে ৬০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল। উচ্চশিক্ষার জন্য এই অঞ্চলেই তৈরি হবে আইআইটি এবং আইআইএম। জনজাতিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথাও জানান তিনি। দার্জিলিংকে আন্তর্জাতিক মানের ‘ইকো অ্যাডভেঞ্চার হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন শাহ।
গঙ্গারামপুরে সভার পরে এদিন মালদহের মানিকচক এবং গাজোলে সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মালদহের সভা থেকে আমজনতার উদ্দেশ্যে শাহের প্রশ্ন, ‘মাফিয়ারাজ বন্ধ করতে চান তো? উত্তরবঙ্গকে উন্নত করতে চান তো? তা হলে দু’হাত তুলে বলুন ‘জয় শ্রীরাম’।’ রাজ্যের তৃণমূল সরকার কোল্ড স্টোরেজ তৈরি না করায় মালদহের অনেক আম নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ যখন এখানে এসেছি, মালদহের আমের কথা বলতে চাই। আমাদের গুজরাত এখান থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে। কিন্তু মালদহের আম গুজরাতের বাজারে পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোল্ড স্টোরেজ তৈরি না-করায় আম নষ্ট হচ্ছে।’
কাটমানি ইস্যুতে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শাহ বলেন,‘ আপনাদের যারা কাটমানি নিয়েছে, তারা ভাবে, কিছু হবে না। কিন্তু দিদি, আমরা কাটমানিখোরদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করি।’ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় ‘লভ জিহাদ’ আর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ শেষ হবে বলেও আজ মন্তব্য করেছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘কারও চারটি বিয়ে করলেও ছাড়, কেউ একটা বিয়ে করবে! দিদিরা বলুন, এটা ঠিক? চিন্তা করবেন না। ৫ মে সরকার গড়ার পর ইউসিসি চালু করব। চারটে বিয়ে এ বার শেষ। ‘লভ জিহাদ’ আর ‘ল্যান্ড’ জিহাদ শেষ করব।’ শিক্ষক মামলা থেকে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার হুঁশিয়ারি, ‘এঁরা ভাবেন দুর্নীতি করে করে রেহাই পাবেন। মমতাদিদি ৫ তারিখ আসতে দিন, দুর্নীতিবাজদের এক এক করে জেলে ভরব। ভোটের সময় মমতার গুন্ডা অশান্তি করে? চিন্তা করবেন না, এ বার করবে না। মমতার গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৩ এপ্রিল বাড়িতে থাকবেন। না হলে ৫ মে আপনাদের দেখা হবে।’
হুমায়ুন কবীর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাবর ভেঙেছিলেন রামমন্দির। মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়েছেন। আর মমতাদিদির হুমায়ুন কবীর বলেছেন, বাংলার মাটিতে বাবরি মসজিদ তৈরি করবে। আমি বলি, হুমায়ুন কবীর, তুমি কান খুলে শুনে নাও, এই মাটিতে কোনও মায়ের লাল বাবরি মসজিদ করতে পারবে না। মমতাদিদি আপনি এবং ভাইপোও শুনে নিন, আপনাদের বাবরি মসজিদ বানানোর স্বপ্ন ৫ তারিখ চুরমার হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে, আজ “মেরা বুথ, সবসে মজবুত” কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কর্মীদের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘বুথ স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে হবে, উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।’ বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলাদের ওপর অত্যাচারকে হাতিয়ার করে প্রচারে নামার নির্দেশ দেন তিনি।