ভোটে দাঁড়ান, আবার হারাব, চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর
বারুইপুর, ৩০ অক্টোবর– মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের একটি অনুষ্ঠান থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। দাবি করেন, আগে যেভাবে দু’বার যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই ফের তিনি ভোটে দাঁড়ালে তাকে হারাবেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমি দু’বার হারিয়েছেন ওনাকে। আবার বলছি, ক্ষমতা থাকে তো ভোটে আবার দাঁড়ান। আবার হারাব। বাংলায় আর মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে না। আর কিছুই করতে পারবেন না এই বাংলায়। আপনি দিল্লিতে রামলীলা ময়দানে যাচ্ছেন, ওখানেই যান। এখানে আর আপনার কিছু হওয়ার নেই।’ শুক্রবার বারুইপুরের জনসভা থেকে শুধু মমতাকেই নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডায়মন্ড হারবার নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তার সবচেয়ে বড় অভিযোগ, সম্প্রতি সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের ‘সেটিং’ তত্ত্ব। শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘‘বেবি (সিপিএম সাধারণ সম্পাদক) আর আন্টি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন।”
বারুইপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একাধিক বিজেপি বিধায়ক, শীর্ষ নেতাদের। মুখ্যমন্ত্রী সভায় ছিলেন মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং জয়নগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ও কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। এই জনসভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই একসময় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল। সেটা জানতেন অটলজিও (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী)। সেই তৃণমূলই এখন সিপিএমের সঙ্গে দোস্তি করছে। বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। আসলে বাংলায় কোথাও আপনার জায়গা নেই। আপনি ওই দিল্লিতে রামলীলা ময়দানেই যান।”
অভিষেকের নাম না করে তাকে ‘এঁচোড়ের পাকা ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। ফলতার নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ইলেকট্রিক চুল্লি নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার অভিযোগও তোলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তাঁর দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন তোলেন, সাংসদ কোথায়? পুজোর সময় রাজনৈতিক আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়েও ব্যঙ্গ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে। সময়টা একটু দেখে সব ঠিকঠাক করে করতে হয়। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’