শুক্রবার | ২১ আগস্ট ২০২৬

উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ১৮৯ কোটির প্রকল্পের ঘোষণা, শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা শাহের

 উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষায় ১৮৯ কোটির প্রকল্পের ঘোষণা, শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা শাহের

কলকাতা, ২১ আগস্ট- বঙ্গ সফরে এসে ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। অভিযোগের সুরে বললেন, তৃণমূলের আমলে বাংলায় শুধু বোমার শব্দ শোনা যেত। আবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার এবং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস্ নেক’-এর নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করতে পদক্ষেপও করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

            শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার নতুন প্রশাসনিক, আবাসিক প্রকল্পের শিলান্যাস এবং কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা যেমন করলেন তেমনই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কাছে বারবার আবেদন করার সত্ত্বেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তিনি বলেন, ‘সীমান্তসুরক্ষার জন্য ২০১৪ সাল থেকে ১১২৯ একর জমি চাওয়া হলেও এত দিন পাওয়া যায়নি। এমনকি, তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার আবেদন করেও লাভ হয়নি। হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। জমি মেলেনি।’

            মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজির প্রশংসা করতে চাই। উনি আসার পর সীমা সুরক্ষা নিয়ে আমাদের যখনই কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়েছে, ফোন করলেই পারমিশন পাওয়া যায়। চিঠি তো পরে যায়।’ তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চাওয়া ১১২৯ একর জমি নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ ও এসএসবির জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ২৯ একর জমি তখনও বাকি ছিল বলে জানান তিনি। সেই জমির প্রসঙ্গই এ দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  শাহর বর্ণনা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, ওই ২৯ একর জমির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই পরের দিন অনুমোদন দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের কাজের গতির উদাহরণ হিসেবেই তুলে ধরেছেন শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিশানগঞ্জ এবং ধুবড়ি— এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। এসএসবির জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসএসবি জওয়ানেরা অসামান্য সেবা দিয়েছেন।

            শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সংক্রান্ত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। তাতে যোগ দিতে এবং উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বৈঠক করতে এসেছেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এরাজ্যে লাগু করার বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দেননি। কারণ, উনি জানতেন, এটা লাগু হলে কাটমানি, সিন্ডিকেট সব ভেঙে চুরচুর হয়ে যেত। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম এই ফাইল সই করেছেন। এখান থেকে ইংরেজ আমলের নিয়ম তুলে দিয়েছেন। এবার আপনারা দেখতে পাবেন, তিন ন্যায় সংহিতা (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম) কীভাবে নাগরিক সুরক্ষা দেবে, সম্পত্তি বাঁচাবে। ৩ বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ন্যায় দিতে পারি, সেটা এবার দেখবেন। বাংলার পুলিশ যা করার করবে।’ সিএএ ইস্যুতেও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে শাহ বলেছেন, ‘সিএএ আমরা চালু করলাম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে। তাতেও বাধা দিলেন মমতাজি। কিন্তু কী লাভ হল তাতে? এই তো এখানে কাজ চলছে। বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে, জনবিন্যাস বদল রুখতে আমরা এটা লাগু করেছি। শরণার্থীদের কোনও চিন্তা নেই। সীমান্ত সুরক্ষার জন্য আমাদের জমি দরকার ছিল, এখন সেই জমি পেয়েছি। আমাদের কাজ ভালোভাবে করব। আপনারা সবাই নিশ্চিন্তে থাকুন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *