শনিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ভবানীপুরে ভোট লুঠের আশঙ্কা মমতার, তীব্র আক্রমণ শাহকে

 ভবানীপুরে ভোট লুঠের আশঙ্কা মমতার, তীব্র আক্রমণ শাহকে

ভবানীপুর, ২৫ এপ্রিল- নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও ভোট লুঠের চেষ্টা করছে বিজেপি, এদিন হুগলির উত্তরপাড়ার সভা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ঠাসা কর্মসূচী ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। উত্তরপাড়ায় সভা করার পরে পরপর দু’টি পদযাত্রা করেন, একটি পদযাত্রা ছিল উত্তর দমদমে এবং আরেকটি পদযাত্রা করেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে।

            উত্তরপাড়ার সভা থেকে অমিত শাহকে মোটা ভাই বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে সিআরপিএফকে ভোট লুট করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে মিটিং করে বলেছে ভোট স্লো করে দাও। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে। আমার ভবানীপুরে দায়িত্ব দিয়েছে। আমার বয়েই গেছে। তোরা কাঁচকলা করবি আমার।’ পাশাপাশি তার অভিযোগ, ভবানীপুরে বহিরাগত ঢুকিয়েছে বিজেপি। গতকালও বাসে করে লোক আনা হয়েছে। মমতার আরও দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ শনিবার বিজেপির ৫০ টা হেলিকপ্টার আকাশে উড়ছে। কিন্তু তৃণমূল তিনটেও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম বিলি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। ভোটের পরে বাঁকুড়া, জঙ্গলমহলে ফর্মগুলি “গড়াগড়ি খাচ্ছে” খাচ্ছে বলে অভিযোগ তার। মমতার দাবি, বিহারের লোকজন বাংলার মানুষকে সতর্ক করে বলছে, তারা যে ভুল করেছে তা যেন বাংলার মানুষ না করেন।

            মমতার অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে হিন্দুদের গীতা ছুঁয়ে আর মুসলিমদের কোরান ছুঁয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বলেছে। বিনাপয়সা নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলায় এনে ২০০০ টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে। বিজেপিকে ‘হানাদার’, ‘হল্লা বাহিনী’ বলেও তোপ দাগেন তিনি। ভবানীপুরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘আপনার কী দরকার পড়ল যে দু’লক্ষ পুলিশ বাইরে থেকে নিয়ে এলেন? সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলেন? এত ফোর্স কেন? পশ্চিমবঙ্গকে জোর করে দখল করা যাবে না। লোকে যদি মন থেকে চায়, তো লোক (ভোট) দেবে। লোকের উপর ভরসা রাখো।’

অমিত শাহকে কটাক্ষ করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘আপনারা বলছেন কলকাতাকে আমি ঝুপড়ি বানিয়ে দিয়েছি। তা হলে কি গরিবেরা থাকবেন না? দোকানদার থাকবেন না? যে আপনার বাড়িতে কাজ করেন, দোকানে কাজ করেন, যারা শ্রমিক, কৃষক, তাদের দরকার নেই? আমরা বাড়িতে, দোকানে অনেককে কাজে লাগাই। আমেরিকায় গিয়ে দেখুন, সব নিজেদের করতে হয়। পুরো বাসন ধোয়া থেকে কাপড় কাচা সব নিজেকে করতে হয়। আর এখানে দেখুন আপনাকে কত সাহায্য করে। আর যে সাহায্য করছেন, তাদের বলছেন ঝুপড়িবাসী? এটা বলা ঠিক নয়। একদিন আপনারাও এমনই ছিলেন, আজ বড় হয়েছেন। কোটি কোটি টাকা হয়েছে। সকলকে সম্মান করুন। সকলে কোটিপতি হন না। তাতে কী হয়েছে?’ বুথ ক্যাপচার করার জন্য আর ছাপ্পা ভোট দেওয়ার জন্য বাংলায় দু’লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন মমতা।

            ভবানীপুরবাসীকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র কথা বলে মমতা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের এটাই গৌরব। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি। পশ্চিমবঙ্গ সব সময়েই সুশোভিত, বিকশিত, সুরভিত, পুষ্পিত। সব সময়ে পল্লবিত। পশ্চিমবঙ্গে মানুষের মান-মর্যাদা আছে, অতিথি পরায়ণতায় জানে। অতিথিকে সম্মান দেয়, সব সংস্কৃতিকে সম্মান দেয়।’ ভবানীপুরে ফের তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আঙুলে দুই দেখিয়ে  মমতা বলেন, ‘এটা ভিক্ট্রি চিহ্ন। আপনারা জানেন, সরকার আমরাই গড়ব। সরকারকে, পার্টির যা যা সিদ্ধান্ত— আমাকেই লিড করতে হবে। একটা ভোট হয়ে গিয়েছে। নিশ্চিন্তে থাকুন, খুব ভাল হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *