দলের সব পদ থেকে ইস্তফা কাকলির, অস্বস্তি তৃণমূলে
কলকাতা, ২৭ মে– ফের তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দিন তিনেক আগেই জেলা সভাপতির পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। এ বার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন কাকলি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সরকারের আমলের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিশানা করেছেন দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই দলের মধ্যে বেসুরো বারাসাতের সাংসদ। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেন তিনি। মঞ্চেও বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। আর বুধবার দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিলেন তিনি। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, ‘দুর্নীতি থেকে আরজি কর কাণ্ড তাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে। বুধবার তিনি লেখেন, ‘আমার বিবেক আজ গভীর ভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ আর জি করের প্রাক্তনী কাকলি এ-ও জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনুভব করেছেন। পাশাপাশি, চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, (তখন) সে পদে থাকার মানে হয় না।’
চিঠির দ্বিতীয় অংশে কাকলি নিশানা করেছেন তৃণমূলের ভোট পরামর্শকারী সংস্থা আই-প্যাককে। দলের রাজ্য সভাপতিকে সাংসদ লিখেছেন, ‘যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।’ দলের মধ্যে তিনি যে এখন একজন সাধারণ কর্মী তাও উল্লেখ করেছেন বারাসাতের সাংসদ।
অন্যদিকে, বুধবার কলকাতা পুর নিগমের বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। এছাড়া নিগমের অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। আর এই ইস্তফা দেওয়ার পরেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন দুজনেই। অরূপ বলেন, ‘ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তারা জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন, কেউ নেই রাস্তায়। যাদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। ধন্যবাদ বিজেপিকে। তাঁরা আমাদের ঘরছাড়া ছেলেদের ঘরে ফেরাতে সাহায্য করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো। শেষতম ব্যক্তিকে ঘরে ফেরানো পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে থাকব।’