শুক্রবার | ১২ জুন ২০২৬

৬৩৫ কোটি টাকার নয়ছয়, শুভেন্দুর স্ক্য়ানারে এবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন

 ৬৩৫ কোটি টাকার নয়ছয়, শুভেন্দুর স্ক্য়ানারে এবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন

কলকাতা, ১২ জুন– বাংলাকে শিল্পবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ঘটা করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন হয়েছে বছরের পর বছর। তাতেও বাংলায় শিল্পের খরা কাটেনি। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের নামে ৬৩৫ কোটি টাকা কোন খাতে কত খরচ হয়েছে, তার তদন্ত হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টাটাদের বাংলায় ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

            জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর স্বচ্ছ অবস্থান এবং কর্মসংস্থানমুখী ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে শুক্রবার বিবৃতি জারি করেছে রাজ্যের দুই প্রথম সারির বণিকসভা— ‘বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ এবং ‘মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’।  মুখ্যমন্ত্রীর নতুন শিল্প নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর জেনারেল শুভদীপ ঘোষ বলেন, “একটি বণিকসভা হিসেবে সরকারের এই সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টার কথা জানতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। শুধু তাই নয়, সরকার যে স্রেফ আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত বিনিয়োগ আনা এবং তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের এই লক্ষ্যপূরণে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

            কেন্দ্রের সাফল্যের এক যুগ পূর্তিতে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, “বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করতে গিয়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাড়ব না।” এদিন আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মুখে শোনা যায় ফলতার ‘পুষ্পা’ প্রসঙ্গ। তার কথায়, “পুষ্পাদের অবস্থা তো দেখতে পাচ্ছেন। তদন্ত হবে।”

            আগামীদিনে শিল্পোন্নয়ন হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘শিল্প, বিনিয়োগ ছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্পদপ্তরের টিম ভালো রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু প্রকল্প এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে টিম গঠন করে দিয়েছি। ছোট, মাঝারি, বড় শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই লক্ষ্য। তাতেই বেকার সমস্যা সমাধান, পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসবেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে এগোতে পারব। বড় বিনিয়োগ এলে ব্রিজ নির্মাণ, চিকিৎসাক্ষেত্র, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন হবে।’ দুর্গাপুজোর অনুদান প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার সাফ কথা, ‘যারা ওই টাকার উপর ভিত্তি করে পুজোর আয়োজন করেন, তারা অনুদান পাবেন। যাদের প্রয়োজন নেই, তারা পাবেন না।’  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *