নিজামস থেকে করিমস, পুজোর আগে ৪০ টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড
কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর- বেশ কিছুদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবারের মান পরীক্ষা করতে নেমেছিলেন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। মোটা টাকা দিয়ে কী মানুষ আসলে কী খাচ্ছে দিনের পর দিন, পুজোর আগেই তা সামনে আনতে অভিযান চলে। সেই অভিযানেই কোথাও পাওয়া যায় পচা খাওয়ার, ছত্রাকে ভরা খাবার। আর তারপরেই অ্যাকশনে কলকাতা পুরসভা। এবার শহরের নামী ৪০ টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করল পুরসভা।
সোমবার রাত পর্যন্ত ৩১টি দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেই সংখ্যা মঙ্গলবার ৪০ ছুঁয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, তালিকায় রয়েছে নিজামস, করিম’স, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা বিরিয়ানি-সহ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণির নাম। বিভিন্ন রেস্তোরাঁর পাশাপাশি নামী মলগুলিতেও অভিযান চালানো হয়। সব মিলিয়ে ৫৯২টি রেস্তঁরা এবং খাদ্যবিপণিতে (মিষ্টির দোকান-সহ) অভিযান চালানোর পরে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ বলে স্মিতার দাবি। স্মিতা বলেন, ‘পুর আইনে সরাসরি লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত ৭ দিনে মোট ৫৯২ জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয় না। মজুত করা রয়েছে পচা সামগ্রী।’
সম্প্রতি হগ মার্কেট (নিউ মার্কেট) চত্বরে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, সব্জি-মাছে ক্ষতিকর রঙের প্রয়োগ কিংবা মাপে কারচুপি— যে কোনও ধরনের অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে রাজ্য সরকার।
পুর আধিকারিকরা বলছেন, অভিযান চালাতে গিয়ে মূল যেটা চোখে পড়েছে তা হল রান্না যেখানে হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ একেবারে অস্বাস্থ্যকর। খাবার স্টোর করার জায়গাও খুব খারাপ। পরিচ্ছন্নতার লেশ মাত্র নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ জায়গায়। যে তেলে মাত্র তিনবার রান্না করার কথা তাতে রান্না করা হয়েছে কয়েকশো বার। ফলে সেই খাবার বিষে পরিণত হচ্ছে। মানুষ খেয়ে দিন দিন অসুস্থ হচ্ছেন। এবার রেস্তোরাঁগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল পুর নিগম।