কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ
কলকাতা অফিস, ১৭ জুন- বাংলায় পালাবদলের পরে তৃণমূল সরকারের আমলের আরও এক মন্ত্রী গ্রেফতার। প্রতারণার অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ। এর আগে প্রাক্তন তিন মন্ত্রী সুজিত বসু, দিলীপ মন্ডল এবং উজ্জ্বল বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো উদয়নের নাম। আরেক প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে বুধবার এফআইআর দায়ের হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানায়। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে বলে খবর। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তিনি তৃণমূল ছেড়েছেন।
পুরনো একটি মামলায় কলকাতার ফুলবাগানের ফ্ল্যাট থেকে আজ উদয়ন গুহকে গ্রেফতার করে কোচবিহার থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে নিয়ে যাওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেই দিনহাটার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উদয়নকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কোচবিহারে ভোট-পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে উদয়নের বিরুদ্ধে। ভোট-পরবর্তী হিংসা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ারও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন উদয়ন। তার পিতা কমল গুহ রাজ্যের বাম সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন উদয়ন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যের বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের কাছে হেরে যান তিনি। পরে নিশীথ বিধায়কপদ ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন উদয়ন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হিসাবে যোগ দেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৭ হাজারেরও বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেই কোচবিহারের দিনহাটা ছেড়ে চলে যান উদয়ন। সেই সময় থেকেই তিনি কলকাতায় রয়েছেন।
দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় বলেন, ‘ওঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। আমাদের কর্মী রতন বর্মণের খুনের মামলা থেকে শুরু করে বীজ মামলা, আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়া থেকে থেকে শুরু করে আরও অনেক মামলা রয়েছে উদয়নের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এসেছিল। সেখানেও তার নাম প্রথম সারিতে ছিল।’
অন্যদিকে, আজ সবং থানাতে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে তিনি প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মানস বলেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে বিধায়ক, চার বছর ধরে সাংসদ। কখনও কারও থেকে একটা সুপারিও খাইনি। আজ হেরে যাওয়ায় অনেকেই অনেক কথা বলবেন। এখনকার যিনি সবংয়ের বিধায়ক সেই অমল পান্ডাও জানেন কত মানুষের পেটের ভাত জোগাড় করে দিয়েছি।’ আবার তোলাবাজির অভিযোগে বুধবারই পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষকে।