দলে আদিদের অগ্রাধিকার দিয়েও ‘সম্ভাবনার রাজনীতির’ প্রসঙ্গ সুকান্তর গলায়
কলকাতা, ২৪ অক্টোবর- বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে এবার দুই পুর নিগম দখল করা শাসক বিজেপির কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আর তাই পুরভোটে দলের প্রার্থীতালিকায় ‘বেনোজল’ আটকাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এদিন স্পষ্ট করে দিলেন কলকাতা পুরভোটে দলের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার। তবে এরই মধ্যে সুকান্তর মুখে ‘সম্ভাবনার রাজনীতির’ কথাও শোনা গিয়েছে। আর এই মন্তব্য করে জল্পনাকে জিইয়ে রাখলেন তিনি। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি তার ক্ষমতাতেই পুরভোটে লড়াই করবে।
পুরভোট নিয়ে শনিবার বিশেষ বৈঠকের পরে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, আদিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতি হলো অনন্ত সম্ভাবনার ক্ষেত্র। আর তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের শোচনীয় হারের জেরে একটার পর একটা প্রশাসনিক ক্ষেত্র ভেঙে পড়েছিল। পুরনিগম, পুরসভা, পঞ্চায়েতের মতো স্থানীয় প্রশাসন থেকে পদত্যাগ, দলত্যাগে ক্ষমতা হারিয়ে অকেজো হয়ে পড়েছিল। একদা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই পরে ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে শাসকদল বিজেপিতে যোগ দেন। তাতে বিজেপির আদি কর্মীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি পুরভোটে সেই ‘দলবদলু’রা টিকিট পাবে? এতদিন একনিষ্ঠভাবে কাজ করেও কি তাদের পিছনের সারিতে চলে যেতে হবে? তাঁদের আশ্বস্ত করতে প্রথমে আসরে নেমেছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও বেনোজল দলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু শনিবার পুরসভার প্রস্তুতি বৈঠকের পর কলকাতায় দলের ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদারের কথায় সেই ধোঁয়াশা জিইয়ে রইল। তিনি বললেন, ‘‘দলের পুরনোদের, সে ১০ বছরের পুরনোই হোক বা ১ বছরের, যারা এখন পদে রয়েছেন, যারা আগে কোনও না কোনও পদে ছিলেন – তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুরনোরা যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব। ছোট থেকে বড়, সমস্ত সাংগঠনিক স্তরে সবার সঙ্গে আলোচনা করে, মতামত নিয়ে তবেই প্রার্থী ঠিক করা হবে। বিশিষ্টদেরও মতামত নেব। তাঁরা চাইলে আসতে পারেন। প্রার্থী বাছার ক্ষেত্রে জেতার ক্ষমতা ও ভাবমূর্তি খতিয়ে দেখা হবে। ২৫ অক্টোবর, বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমাদের নির্ধারিত ড্রপ বক্সে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন জমা দিতে পারবেন। ভোট ঘোষণা হওয়ার ৩-৪ দিনের মধ্যে আমরা প্রার্থী ঘোষণা করে দেব।” তবে কি তৃণমূলত্যাগীরা ঠাঁই পাবে না বিজেপির প্রার্থীতালিকায়? এর জবাবে সুকান্তর তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজনীতি অনন্ত সম্ভাবনার ক্ষেত্র।” আর তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।