রবিবার | ২৩ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ‘ঐতিহাসিক জয়’ দেখছে ইরান

 যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ‘ঐতিহাসিক জয়’ দেখছে ইরান

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ৮ এপ্রিল : সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে আপাতত দু’সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির কথা ঘোষণা করলেন তিনি।
‘আজ রাতেই এক পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে’- এমনই বিষ্ফোরক হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অবশেষে সেই অবস্থান থেকে সরে আসলেন তিনি। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আবার খুলে দেওয়া হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তার ফিল্ড মার্শাল এবং পাক সেনাপ্রধানের প্রস্তাবেই তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন। দুই সপ্তাহের এ বিরতিতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে এগোতে চায়। ট্রাম্প লেখেন, “আমরা সামরিক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই পূরণ করেছি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তাই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও জানান, ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা আলোচনার জন্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। তবে শর্তও জুড়ে দেন তিনি, ইরানকে অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী পুরো খুলে দিতে হবে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’
ট্রাম্পের শর্ত মেনে হরমুজ় কি খুলে দেবে ইরান? আরাঘাচি জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা যথাযথ ভাবে বিবেচনা করে তবেই হরমুজ় দিয়ে নিরাপদ যাতায়ত সম্ভব। আপাতত সেটাও দু’সপ্তাহের জন্যই, তা-ও জানিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসাবে দেখছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মারা গেছে ১,৯০০-রও বেশি মানুষ। লেবাননে, যেখানে ইজরায়েল হিজবুল্লার সঙ্গে লড়াই করছে, মৃত ১,৫০০-র বেশি, ঘরছাড়া ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ইজরায়েলে নিহত ২৩ জন, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্য ১৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *