মঙ্গলবার | ১১ আগস্ট ২০২৬

ধৃতি-মান

 ধৃতি-মান

শুভাশিস চৌধুরী

পর্ব-১

এই পথে মানস আগে কখনো যায় নি।এভাবে বাড়ি থেকে না বলে ক’য়ে, হঠাৎ বেপাত্তা হওয়ার কথা যে মাথায় আসে নি,তা ঠিক নয়।যতবারই ভেবেছে,মা বাবার পিছু টান, আর নিজের পরিচিতির কথা ভেবেই, এই ধরণের উটকো সিদ্ধান্ত নেয় নি মানস। এলাকায় ভালো ছেলে, ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়।এই পরিচয়,ছোট্ট এই শহরে একজন বছর পঁয়তিরিশের যুবকের জন্য যথেষ্ঠ।কাল রাতে মায়ের সাথে একটি বারও কথা বলতে ইচ্ছেই হয় নি মানসের।আসলে ওর বিয়ে নিয়ে পরিবারের লোক কোনো না কোনোভাবে বিরক্ত করবেই।এ নিয়ে যতবার বাড়িতে বলছে, ‘আমাকে একটু ভাবতে দাও’ কিন্তু মা শোনে কই।বাবা অবশ্য চুপ চাপ।কিন্তু মায়ের চাপের কাছে তো সবসময় ঠিক থাকতে পারে না।তাই মাঝে মধ্যে বলে ফেলে। কাল রাতের বাড়াবাড়িটা মানসকে এই পালানোর সিদ্ধান্ত নিতে যেন বাধ্য করেছে।

বিবাহিত জীবনের স্বপ্নটা মানস যেভাবে দেখেছে, দেখতে চায়, সে তো তার মা-বাবার তিরিশ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসারে মাঝে মাঝেই এই ঝুট ঝামেলা,ও ভাবতে পারে না।।মায়ের এবং বাবার বাড়ির লোকেরা এইসব ব্যাপারে বোঝাতে চেষ্টা করে,তাই সে পালিয়ে বেড়ায়। একটাই বোন, বিয়ে হয়ে গেছে ওরই বন্ধুর দাদার সাথে।পরিচিত হলেও সামাজিকভাবেই বিয়ে।দুজনেই নেট ক্লিয়ার করে কলেজে পড়াচ্ছে।দুজনই উত্তর ত্রিপুরার একটা কলেজে পড়ায়।

মানস যাদবপুর থেকে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে মাষ্টার্স শেষ করে এখনও গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত। ইউ জি সি নেট ক্লিয়ার করে এই দূর্মূল্যের বাজারেও ইউনিভার্সিটিতে আপাতত ফিক্সড পে তে পড়ানোর কাজটা পেয়েই গেল। আগরতলা থেকে টুয়েলভের পর যাদবপুরে প্রায় দশ বছর কাটিয়েছে মানস।ছুটিতে বাড়িতে আসে মাস্টার্সের পর থেকে।তখন যদিও ওর গবেষনার কাজ চলছিল। এর আগে হস্টেল জীবনের বাইরে ওর ছুটি ছাটা সবই কাটতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *