শুক্রবার | ২৮ আগস্ট ২০২৬

ক্ষতিগ্রস্থ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল নেপাল

 ক্ষতিগ্রস্থ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল নেপাল

নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট : হড়পা বানের জেলের নেপালের বিস্তির্ণ এলাকার বিপুল ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। আর সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেখানকার ১৩ টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। আর সেই ১৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত ভারতে। বিপর্যয়ের পরে ভারতে বিদ্যুৎ রফতানির পরিমাণও প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে নেপাল।

            নেপাল থেকে ভারত দিনে প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনে থাকে। এখন তার পরিমাণ এক ধাক্কায় কমিয়ে ৪০০ মেগাওয়াট করে দিয়েছে নেপাল। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে ভারত। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করা সংস্থা ‘গ্রিড ইন্ডিয়া’-র পরিসংখ্যান বলছে, বুধবার নেপালে বিপর্যয়ের দিনও সে দেশ থেকে ৯৬৩.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ভারতে।

            হড়পা বানের জেরে নেপালের যে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলি হল আপার ত্রিশূলি (২১৬ মেগাওয়াট), রসুয়াগঢ়ী (১১১ মেগাওয়াট), রাসুয়া ভোটেকোশী (১২০ মেগাওয়াট), সানজেন খোলা (৭৮ মেগাওয়াট), আপার মইলুং এ (৬.৪২ মেগাওয়াট), মইলুং খোলা (৫ মেগাওয়াট), লাইডং খোলা (২০ মেগাওয়াট), চিলিমে (২২ মেগাওয়াট), ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার (২৪ মেগাওয়াট), দেবীঘাট (১৪ মেগাওয়াট), আপার ত্রিশূলি-৩এ (৬০ মেগাওয়াট), আপার ত্রিশূলি ৩বি (৩৭ মেগাওয়াট), মিডল ত্রিশূলি গঙ্গা (১৫.৬ মেগাওয়াট)। এগুলির মধ্যে চিলিমে আর ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেপাল। ভারততে নেপাল যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন তেমনই আবার খরার মরসুমে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয় কাঠমান্ডুকে।  বর্ষায় পাহাড়ি নদীগুলিতে জলের পরিমাণ এবং তীব্রতা বাড়ে। তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণও বাড়ে এই সময়। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারতে পাঠায় নেপাল। হড়পা বানের জেরে গোটা পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *