সমশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান অতীত, কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত নয়, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা অফিস, ১০ জুলাই- সমশেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যে ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল সেসব এখন অতীত। রাজ্যে আর কখনও এসব ঘটবে না, এদিন মুর্শিদাবাদ জেলায় দাঁড়িয়েই এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সমাজবিরোধী ক্রিয়াকলাপ শক্ত হাতে দমন করতে বিল এনেছে বিজেপি সরকার। সেই গুন্ডাদমন বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার পরে রাজ্যপালও সেই বিলে অনুমোদন দিয়েছেন। আর তাই সোমবার থেকেই এই আইন বাংলায় কার্যকর হচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু।
এই নতুন আইনের অধীনে রাজ্যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা, উস্কানি বা দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা হলে, তা প্রতিরোধ করতে পুলিশ ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা অপরাধ ঘটার আগেই সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার বিশেষ এক্তিয়ার পাবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনজীবন বিপর্যস্ত করা বা গুন্ডামির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসন এবার থেকে এই বিশেষ আইনের কঠোর ধারাগুলি প্রয়োগ করবে। শুক্রবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রেল জ্বালানো, বাস পোড়ানো, পুলিশকে মারধর— এসব এখন অতীত। নারী সুরক্ষা, মানবপাচার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিও হবে। সামশেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানে অতীতে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’
হুঁশিয়ারির সুরে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।’ এই মুর্শিদাবাদ থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডারের বহু ভুয়ো প্রাপক ধরা পড়েছে। পাশাপাশি, অন্তত ৩৪টি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ওই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘তদন্ত চলছে। যদি বিডিও এই কাজ করে থাকেন, বিডিও-কে জেলে যেতে হবে। বিএমওএইচ করলে তাঁর চাকরি যাবে। আমরা আরজি কর কেসে তিন জন সিনিয়র আইপিএস-কে যদি সাসপেন্ড করতে পারি, তার উপরে তো কেউ নয়! তাই ভরসা রাখতে পারেন।’
রেজিনগরের সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী দুর্বল ছিলেন। আমি কিন্তু দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী নই। উনি (মমতা) আমাকে হারাতে নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের মানুষ ওনাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। আর এবার আমি ভবানীপুরে গিয়ে ওনাকে হারিয়েছি।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী মাসে তিনি ফের আসছেন শক্তিনগরে। সেখানে সভা করবেন। আবার তিনি এও ঘোষণা করেছেন যে, রাজ্যের যে বাসিন্দারা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না তাদের সকলকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমার আওতায় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমার সুবিধা দেওয়া হবে।