টিএমসিপির কর্মসূচি ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি, গ্রেফতার কুণাল ঘোষ, পৌঁছে গেলেন মমতা
কলকাতা, ২৫ জুলাই- প্রশ্নফাঁস কান্ডে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মিছিলকে কেন্দ্র করে এবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। শনিবারের এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার ধর্মতলায় ছাত্রদের মিছিলের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়ার পরেও অনুমতি দেয়নি লালবাজার। তারপর আদালতের দ্বারস্থ হলেও মেলেনি অনুমতি। কিন্তু এদিন জোর করে কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বিক্ষোভ দেখাতে গেলে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি এতোটাই জটিল হয়ে পড়ে যে বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। খবর পেয়েই পদ্মপুকুরে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সেখান থেকে স্কুটিতে চেপে কালীঘাটের বাড়িতে ফেরেন বর্ষীয়ান নেত্রী। বাড়ি ফিরে ফেসবুক লাইভে মমতার দাবি, পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। অন্য দলগুলি অনুমতি পেলে তার দলের ছাত্র-যুবরা কেন অনুমতি পাবেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। মমতা বলেন, ‘তৃণমূল কি অচ্ছুত না কি! এ ভাবে তৃণমূলের কণ্ঠরোধ করা যায় না কি!’ কুণাল এবং বৈশ্বানরকে কেন আটক করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি (কুণাল এবং বৈশ্বানরকে) না ছাড়ে, আমি নিজে লালবাজার যাব।’
কালীঘাটে ফিরে ফেসবুক লাইভে মমতা দাবি করেন, আদালতের নির্দেশের পর সেখানে তাদের কোনও মিছিলের পরিকল্পনা ছিল না। দলের ছাত্র-যুবরা সেখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি মমতার। তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে কুণাল, বৈশ্বানর-সহ আমাদের ছাত্র-যুবদের টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ তার ছিঁড়ে দিয়েছে, ফ্ল্যাগ ছিঁড়ে দিয়েছে। পুলিশের অধিকার নেই কারও ফ্ল্যাগে হাত দেওয়ার।’ মমতা আরও বলেন, ‘আমি যখন শুনলাম ওদের উপর পুলিশ অত্যাচার করছে, আমি ছুটে গেলাম। আমি যখনই বেরিয়েছি, প্রতিটি ট্রাফিকে লাল লাইট লাগিয়ে রেখে দিয়েছে। যাতে আমি যেতে না পারি। আমি হেঁটে, দৌঁড়ে, স্কুটারে কোনও রকমে ম্যানেজ করে পৌঁছেছি। আমি পৌঁছোনোর পরে আমাকেও ঘিরে ধরে পুলিশের বর্বরোচিত অত্যাচার করেছে।’
কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, প্রথমে পুলিশ পদ্মপুকুর থেকে মৌলালি পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, কালীঘাটপন্থী টিএমসিপির সভানেত্রী প্রিয়ঙ্কা অধিকারীকে পরে ইমেল করে বলা হয়— শুক্রবারের ঘটনার জেরে মিছিলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন জানায়। কালীঘাটপন্থী টিএমসিপির ওই আবেদন শুনতে শনিবার ছুটির দিনে বসে এজলাস। তবে পূর্বতন শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের আর্জি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। শুক্রবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যে অশান্তি হয়েছে, তার পরে শনিবার মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই তৃণমূলের জমায়েত সরাতে শুরু করে পুলিশ। তখনই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় তৃণমূলে ছাত্র নেতাদের। ছিলেন দোলা সেন, কুণাল, বৈশ্বানররা। পুলিশেরও বক্তব্য, হাই কোর্টের নির্দেশের পরে এই জমায়েত অবৈধ। গ্রেফতার হন কুণাল, বৈশ্বানর। তারপরেই সেখানে পৌঁছন মমতা। তারপরেই ফেসবুক লাইভ করে গোটা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।