মঙ্গলবার | ০২ জুন ২০২৬

আমাকে আটকাতে পারবে না, ধর্নামঞ্চ থেকে আক্রমণাত্মক মমতা

 আমাকে আটকাতে পারবে না, ধর্নামঞ্চ থেকে আক্রমণাত্মক মমতা

কলকাতা, ২ জুন- ধর্না কর্মসূচী থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে তার বার্তা, ‘জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে (যদি বেঁচে থাকি বিজেপি-কে সরাবই)।’ তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ফেলে দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ হচ্ছে। তবে সেই চেষ্টা ‘বানচাল’ করে দেওয়ার বার্তা দিলেন মমতা। তার কথায়, ‘বেআইনি ভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর, দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। অনৈতিকভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয় পাবেন না।’

            রানি রাসমণি রোডে প্রথমে এই ধর্না কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করে তৃণমূল। দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী নিজে যে সন্ত্রাস করছে তার বিরুদ্ধে আজ আমাদের অবস্থান। রানি রাসমণি রোডে ধর্নার অনুমতি দেয়নি। রাত সাড়ে ১২ টায় জানিয়েছে ওয়াই চ্যানেলে বসা যেতে পারে। আজ সকালে আমরা সেই চিঠি দেখে উত্তর দিই। জানাই, অনেক দেরিতে জানানো হয়েছে, এটা সম্ভব নয়। শেষ মুহূর্তে এখানেই আমাদের আসতে হবে।’ বিজেপির উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, ‘আমাকে আটকাতে পারবেন না। বাংলায় ১৭৭ আসনে ভোটসুট হয়েছে। সংবিধান রক্ষা করব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত।’

            মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমেই পৌঁছে যান রেড রোডে। সেখানে বিআর অম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেন মমতা। তার সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, অসীমা পাত্রেরা। তার পর সেখান থেকে সোজা চলে যান ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে। দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। তৃণমূলের কতজন বিধায়ক এই কর্মসূচীতে হাজির থাকেন তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল সকাল থেকে। কিন্তু এদিনের ধর্নামঞ্চে একে একে হাজির হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব, অখিল গিরির মতো নেতারা। আসেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় থাকা সত্ত্বেও ধর্নামঞ্চে ছিলেন না বিধায়ক শিউলি সাহা। তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আমাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের তরফে কেউ ফোন করেননি। তবে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আমার নেত্রী।’

            মঞ্চ থেকে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি কারও সুদিনে না-হোক, দুর্দিনে আছি।’ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তিনি। এদিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘দেখে খারাপ লাগে। এত দম্ভ, এত অহংকার ভাল নয়।’    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *