দিদির রাজত্বেও কলকাতা বস্তির শহর হিসেবে রয়ে গিয়েছে, কটাক্ষ শাহের
উত্তর দমদম, ২২ এপ্রিল– শহর কলকাতাতেও অনুপ্রবেশকারীদের থাকার জন্য জায়গা দিচ্ছে বাংলার তৃণমূল সরকার। আর সেই কারণেই কলকাতা আজও বস্তির শহর হিসেবে রয়ে গিয়েছে, উত্তর দমদমের সভা থেকে এদিন এভাবেই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দাবি করলেন, ৪ মে দিদিকে টাটা, গুডবাই জানাবে বাংলার মানুষ।
জানা গিয়েছে, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাতেই থাকবেন অমিত শাহ। ঠাসা কর্মসূচী রয়েছে তার। মঙ্গলবারও অনেক রাত পর্যন্ত দলের কার্যকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বুধবার উত্তর দমদমে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রথম সভা করেন শাহ। আর সেই সভা থেকেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। অভিযোগ করেন, বাংলায় কমিউনিস্টদের শাসনকালে যে অবস্থা হয়েছিল, পরিবর্তনের পরে তৃণমূল সরকারের আমলেও সেই পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং গোটা রাজ্যের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। আশ্বাস দেন, বাংলায় বিজেপির সরকার এলে আবার বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে গোটা রাজ্যজুড়েই প্রচার সরব হয়েছেন বিজেপির নেতারা। এবার শহরেও সেই অনুপ্রবেশকে হাতিয়ার করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজেপি প্রার্থীদের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য ভোট দিন। দিদির রাজত্বে, কমিউনিস্টদের আমলেও গোটা শহর বস্তির শহর হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। দেশের অন্য অনেক শহর ইতিমধ্যেই বস্তিমুক্ত হয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই উদ্যোগ দেখা যায়নি। তৃণমূল সরকার বস্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করছে।’ এই নির্বাচন শুধু বিধায়ক বানানোর জন্য নয়, কলকাতার গৌরব ফেরানোর ভোট, এমনই দাবি করেছেন শাহ। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শুধু বিধায়ক বানানোর ভোট নয়, এটা কলকাতার গৌরব ফেরানোর ভোট। তাই ভোট দেওয়ার আগে এইটুকু মাথায় রাখুন। বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করুন।’
বাংলায় সিন্ডিকেটরাজের কারণে শিল্প চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ। তার কটাক্ষ, ‘বাংলাজুড়ে শুধু সিন্ডিকেটরাজ। বাড়ি তৈরির জন্য ইট, বালি নিতে গেলেও টাকা দিতে হয় তৃণমূলের গুন্ডাদের। বাংলা থেকে পরপর শিল্প চলে গেছে, কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সবই হয়েছে তৃণমূলের সিন্ডিকেটের জন্য।’ এরপরেই আশ্বাসের সুরে বলেন, ‘৪ তারিখ একবার বিজেপিকে আনুন, রাজ্য থেকে গোটা সিন্ডিকেটরাজ শেষ করে দেব।’ তৃণমূলের উদ্দেশ্যে ফের হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে শাহের গলায়। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মীরা বিভিন্ন কলোনি ও আবাসনে গিয়ে মানুষকে ভোটের দিন বাড়ি থেকে না বেরোনোর জন্য ভয় দেখাচ্ছে। আমি তৃণমূলের গুন্ডাদের বলছি, ২৯ তারিখ আপনারাই বেরোবেন না। বেরোলে সমস্যায় পড়বেন।’ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও বলেন সন্ধ্যার পরে কেন বাইরে বেরোচ্ছেন, এটা অত্যন্ত লজ্জার। ৫ মে-র পরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যাতে একটি ছোট মেয়েও স্কুটিতে বেরোলে কোনও দুষ্কৃতী তার দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস পাবে না।’
বাংলায় বিজেপির সরকার আসছে বলেও প্রত্যয়ের সুর শোনা গিয়েছে শাহের গলায়। তিনি বলেন, ‘৪ তারিখ নতুন সরকার গঠন হবে। বাংলায় শুরু হবে বিজেপি সরকার। দাবি করে বলছি, মমতার উল্টি গিনতি শুরু হয়ে গেছে। তাকে সরে যেতে হবে। ৪ মে সকালে গণনা শুরু হবে – ৮টায় ব্যালট বাক্স খোলা, ৯টায় প্রথম রাউন্ড, ১০টায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ১টার মধ্যেই গণনা শেষ হয়ে যাবে। তারপরই হবে – দিদি টাটা, গুড বাই।’