মঙ্গলবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা-ইরান

 দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা-ইরান

ওয়াশিংটন, ১৪ এপ্রিল : গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে কুড়ি ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক নিষ্ফলা হয়, আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সেই বৈঠকটিতে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। মঙ্গলবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) মার্কিন আধিকারিক সূত্রে এপি জানায়, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসতে পারে দুই দেশ। যদিও দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই বৈঠকই আয়োজন করতে আগ্রহী পাকিস্তান। তারা চাইছে, এই বৈঠকটিও হোক ইসলামাবাদেই। এ বিষয়ে আমেরিকা বা ইরান এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি ইসলামাবাদকে।

            অন্য একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বদলে বিকল্প কোনও জায়গায় বৈঠক আয়োজিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মার্কিন সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে থামাতে উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলি। তারাই চাইছে, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আবারও আলোচনা হোক। মধ্যস্থতায় অংশ নেওয়া, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরপেক্ষ দেশের আধিকারিকের কথায়, দ্বিতীয়বার শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেহরান দু’পক্ষই রাজি হয়ে গিয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল এই বৈঠক হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।            

গত ১১ এপ্রিল শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসে দুই দেশ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আলোচনায় বসেন। সেই দীর্ঘ বৈঠকে শেষপর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্রে বেরিয়ে আসেনি। এবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় বৈঠক হবে, তেমনটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, বৈঠকের বিকল্প কেন্দ্র হিসাবে জেনিভার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, গত সপ্তাহের ইসলামাবাদ বৈঠকেই মূল আলোচ্য বিষয়গুলির প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছে গিয়েছিল দু’দেশ। তবে বাকি অংশটুকু নিয়ে কোনও তাৎক্ষণিক সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি। পাকিস্তানে শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আর্থিকভাবে ইরানকে বিপাকে ফেরতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। ইরানকে অবৈধভাবে শুল্ক দেওয়া যে কোনও জাহাজকে আটক করবে মার্কিন সেনা। পাশাপাশি মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা অবরোধ করবে তারা। অন্যদিকে ইরানের তরফে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি ইরানের বন্দরকে নিশানা করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বৈঠক কবে হয় এবং তা থেকে সমাধানসূত্র বেরোয় কিনা সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *