চিনের পর কী এবার পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জামের জোগান দিচ্ছে তুরস্ক?
ইসলামাবাদ, ২০ আগস্ট : চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্যতা সুবিদিত। সামরিক দিক থেকে বরাবর চিনের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান। এবার কী পাকিস্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে তুরস্ক? কয়েক দিনে চিন এবং তুরস্ক থেকে পাকিস্তানে সামরিক বিমানের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে এমনটাই জানাচ্ছে ‘নিউজ় ১৮’। দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি প্রায় আড়াই দিনের মধ্যে পাকিস্তানি বায়ুসেনা বেশ কিছু ঘাঁটিতে ঘন ঘন যাতায়াত করেছে ওই দুই দেশের ভারী পণ্যবাহী সামরিক বিমান। ফলে নতুন করে দুই দেশ মিলে পাকিস্কানকে সামরিক সরঞ্জামের জোগান দিচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ আধিকারিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, রাওয়ালপিন্ডির কাছে নূর খান বায়ুসেনা ঘাঁটিতে নামতে দেখা গিয়েছে চিনের বিমানগুলিকে। করাচির মাসরুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও চিনের কিছু সামরিক বিমান নেমেছে। এই আড়াই দিনের মধ্যে তুরস্কেরও বেশ কিছু সামরিক বিমান পাক ঘাঁটিগুলিতে যাতায়াত করেছে বলে সূত্রের খবর। ওই বিমানগুলিতে ড্রোন এবং অন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পর থেকে বেজিং-ইসলামাবাদ সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। এমনকি সংঘর্ষের সময়ে পাকিস্তান যে চিনের বিমান শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়েছিল, তা-ও স্বীকার করে নিয়েছে বেজিং।
আবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তুরস্কের সঙ্গেও বোঝাপড়া রয়েছে পাকিস্তানের। বিশেষ করে ড্রোন, নৌবাহিনী এবং মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আঙ্কারার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে ইসলামাবাদের। গত মে মাসে পাক বায়ুসেনা প্রধান জাহির আহমেদ বাবর সিধু তুরস্কে গিয়েছিলেন। সেখানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে আসেন তিনি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের মধ্যে কোনও একটির উপর হামলা হলে তিনটি দেশের উপরেও সেই হামলা বলে গণ্য করা হবে। ফলে নতুন করে সামরিক বিমানের যাতায়াত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।