অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণে স্মৃতি ইরানি
কলকাতা, ৩ নভেম্বর– জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ইন্ডি জোটের সব দল। তার পাল্টা কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপিও। এই আবহেই মঙ্গলবার দুপুরে বাংলায় এসে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। পাশাপাশি বিজেপি বিরোধী সব দলকে একযোগে আক্রমণ করে তার কটাক্ষ, ‘কংগ্রেস আগেও হারতো। এখন হেরে কমিশনকে দোষ দিচ্ছে।’
১৯৫২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ১২ বার এসআইআর হয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়ে স্মৃতি দাবি করেছেন, এই সময়ের মধ্যে ১০ বারই কেন্দ্রে কংগ্রেসের সরকার ছিল। অথচ আজ রাজনৈতিক স্বার্থে তারা এর বিরোধিতা করছে। তার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তিনি জানান, খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী মৃত ভোটার প্রায় ৩ কোটি, ১ কোটি ডুপ্লিকেট বা নকল নাম, ৩ কোটি অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্ট) এবং প্রায় ৬ কোটি মানুষের ঠিকানা স্থানান্তরিত (শিফটেড) হয়েছে। অথচ বুথ স্তরে বিএলও-দের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির প্রায় ২০ লক্ষ বুথ লেভেল এজেন্ট উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিরোধিতায় তারা সরব হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ছাব্বিশের নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাকে হারানো হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া ও মুখ্য নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেন তিনি। পরবর্তীকালে একটি সংবাদ মাধ্যমের তদন্তমূলক প্রতিবেদন সামনে আসার পর, জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন আরও জোরদার হয়। পালটা স্মৃতি ইরানি কলকাতায় মমতাকে বিঁধে জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ভোটার লিস্টে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখানে আন্দোলন না করে, দিল্লি যাচ্ছে।” স্মৃতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় না লড়ে দিল্লিতে লড়াই করছেন কেন সেই প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “এখানে অধীর, মমতা, সিপিএম মিছিল করুক। এখানে কিছু করছে না, দিল্লিতে গিয়ে হাত মেলাচ্ছে।”