শুক্রবার | ৩০ অক্টোবর ২০২৬

এবার ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের হদিশ, প্রায় তির কোটির দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

 এবার ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের হদিশ, প্রায় তির কোটির দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ৩০ অক্টোবর- পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে জব কার্ড থেকে আবাস যোজনা সব কিছুতেই দুর্নীতি সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি কর্মীদের চিরুনি তল্লাশিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের বেশি ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের হদিশ মিলেছে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা চালুর প্রস্তুতি ও কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া চলাকালীনই এই বেনিয়ম ও অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ।

            নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশাল সংখ্যক ভুয়ো ও অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিপরীতে প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে মেটাতে হচ্ছিল রাজ্য সরকারকে। বিষয়টির তীব্র নিন্দা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপক অর্থে বলেন, ‘মাত্র ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখতে পাচ্ছি। পুরো ইনিংস খেলা এখনও বাকি। এ তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।’

            স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই দুর্নীতির জাল অত্যন্ত চওড়া। কার্ড থেকে শুরু করে উপভোক্তা, চিকিৎসার দাবি, ডাক্তার, চিকিৎসকের ভুয়ো সই, হাসপাতাল, এমনকি থার্ড পার্টি অ্যাসিওরেন্স এবং বীমার বিভিন্ন স্তরে ভুয়ো তথ্যের ছড়াছড়ি রয়েছে। এ হল ‘দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র’। শারদ্বত জানান, এই পুরো আর্থিক দুর্নীতির ফরেন্সিক অডিট করানো হচ্ছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে অতীতে নানা অসঙ্গতি মিললেও স্বাস্থ্যসাথীতে দুর্নীতির বহর আরও ব্যাপক বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *