বুধবার | ১৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশজুড়ে বৃষ্টি কমল প্রায় ৫৪ শতাংশ

 দেশজুড়ে বৃষ্টি কমল প্রায় ৫৪ শতাংশ

নয়াদিল্লি: বর্ষার ঘাটতির কারণে এবার দেশের একাধিক রাজ্যে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশকে ‘খরাকবলিত রাজ্য’ বলে ঘোষণা করেছে অন্ধ্র সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশের ২১টি জেলার ৬৮৮টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৮৮টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ৩৮৮টি খরাকবলিত মণ্ডলের মধ্যে ২৮৩টি মণ্ডলে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার নিয়েছে। বাকি ১০৫টি মণ্ডলকে মাঝারি খরার আওতায় রাখা হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৩.৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক খরা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এল নিনোর প্রভাব এই ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশেই নয়, মহারাষ্ট্রেও এবার বৃষ্টির ঘাটতি বড় সমস্যা তৈরি করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের যে ২৬৫টি তালুককে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে; ইয়াভতমাল, চন্দ্রপুর, বিদর্ভ এবং মরাঠওয়াড়ার বিভিন্ন এলাকায় ফসল, পানীয় জল এবং পশুখাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চন্দ্রপুরে ১২টি খরাকবলিত তালুকের ১,৫৭৯টি গ্রামে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্ণাটকেও পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৩১টি জেলার মধ্যে ৩০টিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ১০১টি তালুককে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ২৫টি তালুককে সেই তালিকায় আনার কথা বিবেচনা করছে কর্ণাটক রাজ্য সরকার।
তেলেঙ্গানাতেও ১৭ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। বহু এলাকায় খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এল নিনোর প্রভাব নিয়ে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একাধিক রাজ্যে এই খরা পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে এবারের দুর্বল বর্ষা। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতেই দেশের ৪৭ শতাংশ জেলা বৃষ্টির ঘাটতির মুখে ছিল। বিহার, অরুণাচল প্রদেশ, অসম-মেঘালয়, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অঞ্চল, পাঞ্জাব, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা-দিল্লি, কেরল, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব রাজস্থান, উপকূলীয় কর্ণাটক-সহ একাধিক অঞ্চলে ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। বর্ষা শেষে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিও স্বাভাবিকের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *