সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৃণমূলের বিদ্রোহী দশ বিধায়কের বিধায়ক পদ কী থাকবে, ৮ অক্টোবরের মধ্যে অধ্যক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

 তৃণমূলের বিদ্রোহী দশ বিধায়কের বিধায়ক পদ কী থাকবে, ৮ অক্টোবরের মধ্যে অধ্যক্ষকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর- তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙণের পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা সহ দশজনের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মমতাপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সেই মামলা নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বিধায়ক পদের ভাগ্য নির্ধারণের মূল এক্তিয়ার বিধানসভার স্পিকারেরই। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারকে এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে এই দশ বিধায়কের বিধায়ক পদ খারিজ হবে কিনা তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।

            ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই দলের মধ্যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। নির্বাচন মিটে যাওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একঝাঁক বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা সঙ্গে নিয়ে তারা মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ও তহবিলের ওপর দাবি জানান। এই ঘটনার পর গত ৮ জুলাই ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে পদ বাতিলের আর্জি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

            যদিও বিধানসভার অধ্যক্ষের তরফে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলে তড়িঘড়ি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন দলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সাংসদ কপিল সিব্বল। মামলাটির শুনানি শেষে বিচারপতিরা সরাসরি হস্তক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করে জানান, বিধায়কদের পদ খারিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনানুগ অধিকার স্পিকারের কোর্টেই ন্যস্ত। দলত্যাগ বিরোধী আবেদনের তিন মাসের বিধিবদ্ধ সময়সীমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই বিধানসভার স্পিকারকে এই আর্জির ফয়সালা করতে হবে। ফলে এবার বিধানসভার অধ্যক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *