বৃহস্পতিবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রীরামপুরে সভা করার অনুমতি আদালতের

 শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রীরামপুরে সভা করার অনুমতি আদালতের

কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর- শেষপর্যন্ত হুগলিতে কালীঘাট তৃণমূলকে জনসভা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্টে। শর্তসাপেক্ষে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে ২৬ সেপ্টেম্বর সভা করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সর্বাধিক ১,০০০ জনের জমায়েত করার সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি সভার দিন শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হুগলির জেলা বিচারক এবং শ্রীরামপুর থানার আইসি-কে। সভা থেকে কোনও অপ্রীতিকর মন্তব্য করা যাবে না।

            ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের মাহেশে একটি কর্মসূচি করার কথা ছিল কালীঘাট তৃণমূলের। থাকার কথা ছিল তৃণমূলনেত্রী মমতারও। তার অনুমতিকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়। ঘটনার জল গড়ায় আদালতে। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে এদিন রাজ্যের তরফে জানানো হয় ২৬ সেপ্টেম্বরে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত করতে কোনও সমস্যা নেই। তবে জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। ৫০০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। বিচারপতি বলেন, এক হাজার মানুষের জমায়েত করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য এর তীব্র বিরোধিতা করে। আদালতে একপ্রকার দর কষাকষি হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের দেওয়া প্রস্তাবে বিরোধিতা করে বলেন, সঙ্গীত অনুষ্ঠানে দু’হাজার মানুষের জমায়েত হযেছিল। তাই এত কম সংখ্যায় মানুষের জমায়েত করে সভা করা সম্ভব নয়।

            সব পক্ষের কথা শোনার পর ২৬ তারিখ শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করার অনুমতি দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, মামলাকারী বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সভা করতে পারবে। কোনও অপ্রীতিকর মন্তব্য করা যাবে না। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে ১০ জন স্বেচ্ছা সেবকের নাম, মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। খুব বড় মঞ্চ করা যাবে না। ১০০০-এর বেশি জমায়েত করা যাবে না। সভা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ খুলে নিতে হবে।

            কালীঘাট তৃণমূল দু’হাজার হাজার লোকের জমায়েত চেয়েছিল। রাজ্য তাতে আপত্তি জানায়। রাজ্যের বক্তব্য, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দান চত্বর খুবই সংকীর্ণ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পান। ফলে নিরাপত্তার কারণে সামনে কিছুটা জায়গা ছেড়ে রাখতে হয়। সেই জায়গা ছেড়ে বাকি অংশে দু’হাজার লোকের জমায়েত করলে পদপিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা সওয়ালে বলেন, রাজ্যের ওই যুক্তি ঠিক নয়। সেখানে শ্রেয়া ঘোষালের অনুষ্ঠানে ৫০ হাজার লোকের জমায়েত হয়েছিল। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সর্বাধিক এক হাজার লোক নিয়ে কর্মসূচি করা যাবে বলে জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *