বৃহস্পতিবার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রেফতার অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, রক্ষাকবচ উঠতেই তাকে গ্রেফতার করল সিআইডি

 গ্রেফতার অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, রক্ষাকবচ উঠতেই তাকে গ্রেফতার করল সিআইডি

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর- শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ উঠতেই গ্রেফতার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় এই গ্রেফতারি বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সুমিতকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ভবানীভবনে। তারপর সেখান থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

            ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবার সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার পাশাপাশি তার রক্ষাকবচও খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। আর সেই রায় সামনে আসার কিছু পরে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। অভিষেক যদিও এখন চিকিৎসার কারণে বিদেশে রয়েছেন। সিআইডির আধিকারিকেরা অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যেতেই সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। কিছুক্ষণ এই পরিস্থিতি চলার পরে গেট খুলে ভেতরে ঢোকেন সিআইডির আধিকারিকরা। গেট খুলতেই দেখা যায় সুমিতকে। তার পরনে ছিল সাদা ফুল শার্ট, কালো ট্রাউজ়ার্স। সঙ্গে সঙ্গে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে ঘিরে ফেলে পুলিশ। তার পর তাকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলা হয়। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হল তাকে। সিআইডি সূত্রে খবর, শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হবে সুমিতকে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাতে পারে সিআইডি।

            এর আগে ভবানী ভবনে ১১ বার তলব করা হয়েছিল তাঁকে। সুমিত রায় এইবার যাতে কোনওভাবেই পালাতে না পারেন সে কারণে কড়া নজরজারি রেখেছিল বেঙ্গল এসটিএফের দল। ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের বাড়ি ঠিকানা ছিল সুমিতের। আজ সকালে ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাড়িতে ঢোকার কিছু সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার হন সুমিত। এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই রাজ্যের একজন প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। তোলাবাজ ভাইপোর একনম্বর কালেক্টর হল এই সুমিত রায়, তাকে আজ সিআইডি গ্রেফতার করেছে।’ শালবনির জমি কেলেঙ্কারি মামলায় আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুজয় হাজরা ও আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই গ্রেফতার করা হল সুমিত রায়কে।

            এর আগের শুনানিতে সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য প্রশাসন। নগদ টাকা জমা পড়ার বিষয়ে সুমিত উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন কি না – তা খতিয়ে দেখতে গত শুনানিতে রাজ্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। বুধবার আদালতে সেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও এবং লিখিত বয়ান জমা দেয় রাজ্য। বুধবার শীর্ষ আদালতে রাজ্যের পক্ষে জোরালো সওয়াল পেশ করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সুমিতের অ্যাকাউন্টে জমানো বিপুল এই ১৫ কোটি টাকার উৎস সম্পূর্ণ সন্দেহজনক। এই রহস্যজনক টাকার জট ছাড়াতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। শীর্ষ আদালত বৃহস্পতিবার সুমিতের রক্ষাকবচ বাতিল করে দেয়। ফলে সুমিতকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনগত বাধা ছিল না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, সুমিতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে সঠিক ভাবে সাহায্য করেননি।

            প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘আমরা সময় এবং সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি।’ রক্ষাকবচ উঠে যেতেই তাকে গ্রেফতার করল সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *