অভিষেকের দপ্তর থেকে দলের সাইনবোর্ড খুলে নিল পুরসভা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ধুন্ধুমার পরিস্থিতি ক্যামাক স্ট্রিটে
কলকাতা অফিস, ২৭ আগস্ট– অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে এবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। এদিন হঠাৎ করেই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছে যান কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। সেই সময়েই অফিসের বাইরে বেরিয়ে আসেন স্বয়ং অভিষেক। পুর আধিকারিকদের কাছে অর্ডারের কপি দেখতে চান তিনি। আর এ নিয়ে পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। মিনিট পনেরোর মধ্যে অর্ডারের কপি নিয়ে ফের সেখানে হাজির হন পুর আধিকারিকরা। তারপরেই ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসে ঢুকে ছাদে উঠে খুলে ফেলা হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাইনবোর্ড।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিষেকের দপ্তরের বিশাল পুলিশবাহিনী এবং পুর কর্মীরা পৌঁছলেই তৈরি হয় উত্তেজনা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন অভিষেকের অনুগামীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা। অভিযোগ, অবৈধ ভাবে বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে। তবে তা মানতে চাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় তার। দফতরের ভিতরে চলে ধস্তাধস্তি, স্লোগান। জোর করে ভবনের ছাদে উঠে পুরকর্মীরা বিলবোর্ড থেকে প্রথমে তৃণমূলের নাম লেখা ব্যানার ছিঁড়ে দেন। পরে বোর্ডটি খুলে ফেলেন। একে ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন অভিষেক। বিজেপির তামাক খেয়ে পুলিশ গুন্ডাগিরি করছে বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক।
অভিষেক বলেন, ‘জোর করে তৃণমূলকে শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপির এত ভয় কেন? তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুতি দেব না। নেতাদের আক্রমণ করব, পার্টি অফিস ভাঙব, বিলবোর্ড ভাঙব— এত ভয়? শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে চাই, আমরা ঘাসফুল। ঘাস যত কাটবে, ততই বাড়বে।’ ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে ঢোকার সময় গোড়াতেই বাধা পান পুলিশ ও পুরকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত জোর করে ঢুকলেও প্রতি পদে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। বিলবোর্ড খুলতে হলে দফতরের ছাদে উঠতে হত। পুলিশ বাধা কাটিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লেও অভিষেক ও তাঁর অনুগামীরা ছাদের রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন। সেখানে মহিলারাও ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে সিঁড়িতেই বচসা চলে। পুলিশকে উপরে উঠতে দেওয়া হচ্ছিল না। ধস্তাধস্তিতে সিঁড়িতে পড়ে যান ডেরেক। তবে তাকে পাশ কাটিয়েই আধিকারিকেরা উপরে ওঠেন।
অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, ক্যামাক স্ট্রিটে অনেক দোকানের ওপর ফুটপাথে সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও তা খোলা হচ্ছে না কেন। তার মন্তব্য, ‘ফুটপাতের উপর এত বোর্ড লাগানো আছে। কেউ সেটা খুলবে না। যাঁরা এত দিন ধরে একের পর এক অবৈধ বিল্ডিং তৈরি করেছেন— সকলের সাত খুন মাফ। কারণ, তারা এখন বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন। পুলিশের এই আচরণ, গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে আমরা হাই কোর্টে মামলা করব। সংবিধানের বাইরে কেউ নয়।’ অভিষেকদের বিরুদ্ধে পুরসভা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলাদের আক্রমণ ও হেনস্থার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। গুন্ডাদমন শাখার আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থলে ছিলেন।
বিলবোর্ড খোলার বিষয়ে বিকেলেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। আইনজীবী অর্ক নাগ দ্রুত শুনানি চেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আবেদন করেন। বিচারপতি জানিয়েছেন, শুক্রবার বিষয়টি মামলার জন্য মেনশন করা যাবে।