ফের বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, শুনতে হলো ‘চোর’ স্লোগান
কলকাতা, ১১ আগস্ট– উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহরের পরে এবার খাস কলকাতা। ফের ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার ক্ষুদিরাম বসুর ছবি হাতে নিয়ে শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে পৌঁছন মমতা। আর নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানোর পরেই তাকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান ওঠে।
আজ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর প্রয়াণ দিবস। সরকারের তরফে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। একইভাবে ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা ও নেতাজিকে অপমানের জবাব দিতে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কারণেই মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের কর্মীরা। নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করেন মমতা। এরপর নিশানা করেন বিজেপিকে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
সেখান থেকে ফেরার পথেই চোর স্লোগান শুনতে হয়েছে মমতাকে। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠেছে বিজেপির কর্মীদের দিকে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তুলে দাবি করতে থাকে, ‘যার হাতে কালি লেগেছে, সে নেতাজির গলায় মালা দেবে না’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মমতার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনসহ একাধিক প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। সেখানেই এমন স্লোগান ওঠায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, বিজেপির মদতপুষ্ট কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে দলীয় কর্মসূচি বানচাল করতে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করতেই এই ধরনের কুরুচিকর বিক্ষোভের নাটক সাজিয়েছিল। স্লোগান দেওয়া বিজেপির একদল কর্মীর মন্তব্য, ‘বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আমরা বাধা দিইনি। ফেরার সময় চোরকে চোর বলেছি, এতে অসুবিধার তো কিছু নেই।’
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মমতা ক্ষুদিরাম-সহ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সংগ্রামীদের আমরা কোনও দিন ভুলব না।’ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গাঁধী এবং মাতঙ্গিনী হাজরার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মমতার বক্তব্য, তাঁরা দেখানোর জন্য কোনও অনুষ্ঠান করেন না, হৃদয় দিয়ে ভাবেন।