খনিজ সম্পদ চুরি ঠেকাতে এবার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলায়
কলকাতা, ২১ জুলাই- পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলি বরাবর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এবার সেই খনিজ সম্পদের বৈজ্ঞানিক, স্থায়ীত্বশীল এবং পরিবেশবান্ধব উত্তোলন ও ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করতে চাইছেন রাজ্য সরকার। রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় মঙ্গলবার বিধানসভায় জানিয়েছেন, রাজ্যের অভ্যন্তরে ক্ষুদ্র খনিজ পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত সব যানবাহনে ভেহিক্যাল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (ভিএলটিডি) চালু করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, খনিজ উত্তোলনস্থল থেকে নির্ধারিত গন্তব্যস্থল পর্যন্ত খনিজ পরিবহণের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি শক্তিশালী রিয়েল টাইম নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই ভিএলটিডি ব্যবস্থাটি চালু হলে নানা দিক থেকে সুবিধা হবে বলেই মনে রাজ্য সরকার। এই পরিষেবাটি চালু হলে অবৈধ ও অননুমোদিত খনিজ পরিবহণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, পাশাপাশি রাজস্ব ক্ষয় হ্রাস পাবে, প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির নজরদারি ও কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং খনিজ পরিবহণের অনুমতিপত্রের শর্তাবলী যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করা যাবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগটি খনিজ প্রশাসনে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পশ্চিমবঙ্গে খনিজ পরিবহণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনবে। এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ খনিজ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্যে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পশ্চিমবঙ্গে অতীতে একাধিকবার কয়লা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তদন্তও হয়েছে। কয়লা চুরির কারণে রাজ্যে রাজস্ব খাতে ক্ষতি হয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঠেকানো যায় তা নিয়ে আলোচনা আগে হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। বাংলার এই বিপুল খনিজ সম্পদ রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুষম অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার অপার সম্ভাবনা বহন করে।
মন্ত্রী বিধানসভায় আজ জানান, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এমএমডিআর সংশোধনী আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত খনিজ ব্লকের নিলাম প্রক্রিয়া শীঘ্রই পরিচালিত হবে। এই খনিজ ব্লকগুলির নিলাম প্রক্রিয়া আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পাদন ও নিলাম প্রক্রিয়াকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রাজ্যের অভ্যন্তরে অবস্থিত খনিজ ব্লকগুলির নিলাম থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব একদিকে যেমন রাজ্যের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, অন্যদিকে তা দেশের খনিজ নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) সংশোধনী আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুসরণ করে শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তরের পক্ষ থেকে স্টেট মিনারেল এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ক্ষুদ্র খনিজ সম্পদের পদ্ধতিগত অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য অর্থ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা হবে। এই নতুন ট্রাস্টের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনিজ অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করা হবে, রাজ্যের ভূতাত্ত্বিক তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নতুন খনিজ ভাণ্ডার চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।