বৃহস্পতিবার | ০৯ জুলাই ২০২৬

জোড়াফুল থেকে পদ্মফুলে, বিজেপিতে যোগ পদত্যাগী তিন সাংসদের

 জোড়াফুল থেকে পদ্মফুলে, বিজেপিতে যোগ পদত্যাগী তিন সাংসদের

কলকাতা, ৯ জুলাই- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রকাশ্যের ক্ষোভপ্রকাশ করে ছেড়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ পদ। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন তৃণমূলের সেই প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে যোগদান করলেন আরও দুই পদত্যাগী সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।

            আজ তিন নেতার হাতে দলের পতাকা তুলে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তার আগে তিনজনের সঙ্গেই আলাদা করে কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরে শমীকের ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। তৃণমূলের পদত্যাগীদের কারও কারও জন্য কী দরজা খুলতে পারে পদ্মশিবির, সেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। আজ সেই ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্যেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন শমীক। আবার পদত্যাগী এই তিন সাংসদকে বিজেপি ফের রাজ্যসভার টিকিট দেবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল ছেড়ে তিনজন – সুখেন্দুশেখর রায়, ভাই প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব আজ আমাদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করলেন। মোদির নেতৃত্বে গোটা দেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে শামিল হতে চেয়েই তারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এলেন। আমরা আগেই বলেছিলাম, যারা চাকরি বিক্রি করেছে, দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। এঁদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই। সকলের একটা অতীত থাকে। এখন আর তাদের দলত্যাগী  বলবেন না। তাদের একটাই পরিচয়, সকলে বিজেপি।’ এই তিন প্রাক্তন সাংসদকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফের রাজ্যসভায় বিজেপি পাঠাবে কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে শমীকের কৌশলী উত্তর, ‘চর্চা চলুক না।’

            বাম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করে সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘আর জি কর আন্দোলনের সময়ে যখন গোটা দেশ রাস্তায় নেমে গিয়েছিল, তখনই তৃণমূলের বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে বিপদঘণ্টা বেজে গিয়েছে। বামেরা শিল্পে খরা করে গিয়েছে। তারপর তৃণমূল এসেও কিছু হয়নি। বাম আমল দেখেছি, কংগ্রেস আমলও দেখেছি। এখন বিজেপিকে একবার সুযোগ দেওয়া উচিত।’ বৃহস্পতিবার সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ বিজেপি-তে যোগদানের পরেই শমীকের মুখে শোনা গিয়েছে সেই পুরনো তত্ত্বই। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন‍্য দরজা বন্ধ, সে কথা আগে বলেছিলাম, এখনও বলছি। আজকের যোগদান ব‍্যতিক্রমী ঘটনা, কোনও বিচ‍্যুতি নয়।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতি করেননি, মানুষের উপরে অত‍্যাচার করেননি, চাকরি বিক্রি করেননি, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি, তাদের কাছে আমাদের আহ্বান ছিল, আপনারা এগিয়ে আসুন, তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। তারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সে রকম যারা রয়েছেন, তাদের তো আমরা আগেই পাশে চেয়েছিলাম। সুতরাং তাদেরকে দলে স্বাগত জানানোর মধ্যে কোনও সমস্যা নেই।’

            সুস্মিতাও আজ স্পষ্টভাবে জানান,  তার বিরুদ্ধে এ কথা কেউ বলতে পারবেন না যে, তিনি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মন্তব্য, ‘এই ধরনের অবিশ্বাস্য দুর্নীতি যে হতে পারে, সেটা আমি তৃণমূলে এসে কাছ থেকে দেখেছি। আমার সমালোচকেরা বলতে পারেন যে, আমার অনেক কিছু নেতিবাচক দিক আছে। কিন্তু একটা কথা কেউ আমার সম্পর্কে বলতে পারবেন না যে, আমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকেছি।’       

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *