মঙ্গলবার | ১৬ জুন ২০২৬

তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ বরদাস্ত নয়, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

 তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ বরদাস্ত নয়, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

কার্শিয়াঙয়ে খুদেদের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা, ১৬ জুন– নতুন সরকার কোনও তোলাবাজি, কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ বরদাস্ত করবে না, মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ে গিয়ে এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়বাসী যে এবার থেকে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন সেই বার্তাও দিলেন তিনি।

            মঙ্গলবার কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচীতে  সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে প্রতিশ্রুতি দেন, ‘পাহাড়ে সব দলের তরফে সংবর্ধনা পেলাম। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ। কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে।’ তার স্পষ্ট বার্তা, পাহাড়ে তিনি ঘুরতে আসবেন না। উন্নয়ন এবং কাজের জন্য আসবেন।

            বিগত একাধিক নির্বাচনে পাহাড়ে ভাল ফল করেছে বিজেপি। ২০০৯ সাল থেকে একের পর নির্বাচনে পাহাড়ের বেশিরভাগ জায়গায় পদ্ম ফুটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পাহাড়বাসী সব সময়েই বিজেপির উপর ভরসা রেখেছে। সেই ভরসা, প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে। শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘পাহাড়ে উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নির্বাচনী ইস্তাহারে যা যা ছিল, তা পূরণ হবে।’ মঙ্গলবারের সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই, ভরত ছেত্রী, দুর্গা মুর্মু। এ ছাড়াও রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি, জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং এবং বিজেপি হিল সভাপতি সঞ্জীব লামা-সহ বিশিষ্ট জনেরা।

            মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ চালু করলেও আগের সরকার দুর্নীতির কারণে তা কার্যকর করেনি। এখন বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে। টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চা-বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে পাহাড়কে সব সময়েই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী এখানে ঘুরতে আসতেন। আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে ঘুরতে আসবে না।’’ তার প্রতিশ্রুতি, ‘পাহাড়ে সব বন্ধ চা-বাগান খুলবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ,  ‘তোলাবাজি, কাটমানি ছাড়া আর কিছুই হয়নি আগের সরকারের আমলে। কিন্তু নতুন সরকার এই তোলাবাজি, কাটমানি বরদাস্ত করবে না। জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকারের আমলে হবে না।’ জিটিএ-র যে দুর্নীতি হয়েছে তার তদন্ত হবে বলে হুঁশিযারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা চুরি করেছেন, তাদের জেলে ভরা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। যারা লুটেছেন, তাদের জেলের ভিতরে ঢোকানোর কাজ করবে আমাদের সরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *