সোমবার | ১৫ জুন ২০২৬

কবিতা : বাকল

 কবিতা : বাকল

বাসব মৈত্র

আনুগত্যের স্বেদসিক্ত অন্ধকার, তুমি যখন ওম নিয়েছ বহুগামিতার রোদ্দুরে, তখন দেখো অস্তিত্ব সংকটের প্রকৃতিও ধীরে ধীরে বদলে যাবে। বদলে যাবে শূন্যতা ও আর্তির পরিপূরকতা। বদলে যাবে, মায়া আশ্রয়, অবলম্বনের সেই অন্তরমুখীনতা। হে রক্তক্ষরণ, হে বৃক্ষ, হে সন্দেহ প্রতিযোগিতার স্ফুলিঙ্গে দেখো তোমার নারীকে।দেখো তোমার পুরুষকে।
তুমি যে নারীকে ভালোবাসো, সে তোমার পাশাপাশি কতজনকে জড়িয়েছে অস্তিত্বে। তুমি যে পুরুষকে ভালোবাসো সে তোমার পাশাপাশি কতজনকে জড়িয়েছে তার পুরুষোচিত ঘ্রাণে। বহুগামিতার আড়ালে যে লাবণ্য, যে মুহূর্তস্বর, যে মায়া, যে দৃঢ়তা, যে স্বচ্ছতা, যে বিজয় উল্লাস, তারা একাধারে জেনেছে গৃহস্থের প্রতিটি পদক্ষেপ, অন্যদিকে ব্যাখ্যা অপব্যাখ্যায় মন্ত্রমুগ্ধ করেছে খরজল।
বহুগামিতার সঙ্গীতে যে বিক্ষিপ্ত নান্দনিকতা,বহুগামিতার কুয়াশায় রূপ ও মেধার যে অস্থিরতা সেই শিখিয়েছে, তোমার বহু প্রেমিকের মধ্যে আমি একজন। আমার বহু প্রেমের মধ্যে তুমি একজন। বহুগামীতা সেই বিশ্লেষণ, বহুগামিতা সেই রক্তক্ষরণ, বহুগামিতা সেই অস্তিত্ব সংকট। বহুগামিতা তোমাকে ব্যর্থ প্রণয়ের একাকীত্ব থেকে বার করে নিয়ে যাচ্ছে মুহূর্ত স্বর, মায়া, দৃঢ়তা, স্বচ্ছতার রোদ্দুরে। সবুজ ঘাস, গাছের বাকল, গোধূলির আলোয় তোমার অস্তিত্ব যখন নীল, তোমার অস্তিত্ব যখন সোরিয়াসিসের আঁশ, দ্রুত শ্বাসকষ্ট, সিলিং ফ্যানের দ্রুত ঘূর্ণন; তোমার অস্তিত্ব যখন স্নানহীন, বদ্ধ ঘর, বিরক্ত। যখন প্রেমের অর্থ খুঁজে পাচ্ছ না—
আনুগত্য, প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠা, পরিণতি, আদর্শ, নৈতিকতা, সময়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে প্রত্যুত্তর— যখন ভাঙতে চাইছ সেতু, দূরে সরাতে চাইছ কথোপকথন, যখন বুঝতে পারছ— এতদিনের আলিঙ্গনের কেন্দ্রে অসংলগ্ন করতল— শীৎকারের বহু বর্ণ ধ্বনি, জিভ, ত্বক, বাহু সব অচেনা লাগছে, বিরম্বিত ব্যক্তি স্বত্তা
বহুগামিতা তখন তোমাকে বার করে নিয়ে যাচ্ছে বিবাহের বয়ঃসন্ধি থেকে, আনুগত্যের শ্মশানে তখনও বিবাহের অদাহ্য নাভিকুণ্ডু পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *