শনিবার | ১৩ জুন ২০২৬

ভাঙণ আরও চওড়া, এবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

 ভাঙণ আরও চওড়া, এবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা, ১৩ জুন– তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙণ আরও তীব্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা বলে পরিচিত সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে। শনিবার সকালে দিল্লি পৌঁছেই বিদ্রোহী শিবিরের আরেক সাংসদ শতাব্দি রায়ের সঙ্গে সোজা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের ৯, মতিলাল নেহেরু মার্গের বাসভবনে পৌঁছে যান সুদীপ। সেখানে গিয়ে বৈঠকও করে দীর্ঘ সময় ধরে। জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদ শিবিরের নেতা হতে পারেন সুদীপ। সোমবারই বিদ্রোহী সাংসদদের সই সম্বলিত চিঠি জমা পড়তে পারে লোকসভার স্পিকারের কাছে। সুদীপ যোগ দিলে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা বেড়ে হবে ২০।

            ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল ভেঙে চুরমার। ৮০ জন বিধায়কের পরিষদীয় দলের সিংহভাগ বিধায়ক আলাদা হয়ে গিয়েছেন দল থেকে। স্পষ্টভাবে বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানা সম্ভব নয়। বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ বলে বিরোধী দলের তকমা প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছে। যদিও এনিয়ে আইনি লড়াই চলছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বিরাট ভাঙন। ২৮ জনের মধ্যে এখন ১৯ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে কলকাতা উত্তরের দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি তৃণমূলনেত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম ভরসাযোগ্য বলে পরিচিত।

            দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যেই বরাবর ছিলেন তিনি। চিটফান্ড মামলায় অভিযোগ ওঠায় বেশ কয়েকবছর সুদীপকে কাটাতে হয়েছিল জেলে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সসম্মানে তিনি ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে নিজের দাপট দেখান। পরপর নির্বাচনে কলকাতা উত্তর সংসদীয় কেন্দ্রটি ধরে রাখতে সক্ষম হন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে লোকসভার দলনেতার পদ দিয়েছিলেন মমতা। তবে সুদীপকে নিয়ে দলের মধ্যেই বিস্তর ক্ষোভ ছিল। সেসবের জেরেই কী এবার মমতার পাশ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সুদীপ? উঠেছে সেই প্রশ্ন। এদিনই কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বুঝুন কাদের ওপর ভরসা করেছিলেন। তাপস রায়ের মতো নেতাকে সরে যেতে হলো। কেন, এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কান্নাকাটি করেছিলেন উত্তর কলকাতার সভাপতি পদে তাকে দায়িত্ব আনার জন্য। আমি সেদিনও মুখ খুলেছিলাম বলে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।

            সুদীপের এই অবস্থান নিয়ে তাপস রায়ের মন্তব্য, ‘এসব বোঝাকে নিয়ে চলতে ভালবাসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার সেদিন তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল সেটা আজ প্রমাণিত।’ তৃণমূলের এই বিদ্রোহী ব্লকের দাবি, আগামী দুদিনে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *