দু’টি কবিতা
প্রণব চৌধুরী
পাহাড়ের আশ্রয়ে
শিশিরের স্পর্শ মেখে
শিশু সূর্যের স্বর্ণাভ আলোর হাসি ফুটে,
পাহাড়ি যুবতীদের ঠোঁটের কোণে ভাসে
সে হাসির ছোঁয়া।
টং ঘরের পাশে গাছের ঘন পাতার ঝোপে বসে
চারদিকে চোখ রাখে লজ্জাবতী বানর।
বঁাশের ফুলে দোলে প্রেম।
দুপুরের রোদ মেখে ঝরনার নিচে গিয়ে
কালো পাথরের উপর বসে
চোখ বুজে মগ্ন হই প্রকৃতির ধ্যানে।
এখানে মোবাইলের টাওয়ার নেই।
ডাকঘর নেই। তাই তোমার সঙ্গে,
তোমাদের শহুরে সভ্যতার সঙ্গে
বিচ্ছিন্ন অনেক দিন রাত।
তোমার ফ্ল্যাটের নিচে একটা
নির্মম খুনের দৃশ্য দেখেছিলাম।
বঁাচাতে গিয়েছিলাম। তাই আমি খুনের আসামি।
পালিয়ে আছি এই সভ্য নাগরিক সমাজ থেকে
অনেক দূরে, লাল মিটির পাহাড়ের আশ্রয়ে,
পাহাড়ি যুবতীর নির্মল ভালোবাসার ছায়ার বলয়ে।
ঝরনার নূপুর নিক্কনের আবেশ
সমস্ত ইন্দ্রিয়ের গভীরে দোলা দেয়।
ভুলিয়ে দেয় নির্মম খুনের সেই বীভৎস দৃশ্য।
এক সময় নিজেকে ফিরে পাই
ধ্যানের গভীর থেকে জেগে— জল নিতে আসা
পাহাড়ি যুবতীর সলাজ শব্দে—
“দুপুর হইছে তো! চলো, কড়ুলের ঝুল দিয়া
ভাত খাইব।”
আমি তার পেছনে পেছনে চলি
লাল মাটির পাহাড়ের সর্পিল পথের রেখা ধরে।
জীবন
ইলেকট্রিক তারে ঝুলানো
আমাদের ছবিগুলো হাওয়ায় উড়ছে।
আগামী দিনের শিল্প-কলার অপেক্ষায়
আগামী দিনের শিল্প-কলার অপেক্ষায়
সমস্ত ইহকাল— হালকা সুতোয় বোনা।
পড়ন্ত স্বপ্নেরা হেঁটে চলে
মড়া গাছের শুকনো শাখায় শাখায়।
হ্রস্ব স্বরে নিজেদের সমাপ্তি টেনি
দীর্ঘ স্বরগুলো গাড়োয়ান সেজে রাস্তার পাশে!
সারাটা জীবন পড়ে আছে। চালাবে কাকে ওরা?
শব নাকি মুমূর্ষু জীবনকে?
জবাব নেই। নেই কোনও হ্যঁা-না-শব্দ।
ঘোলা জলের স্রোত বেয়ে
পলি এসে জমা হয় নদীর পারে।
বহু পথ ছুটে এসে, শ্রান্ত-ক্লান্ত মানুষটি দেখে—
নদীর মাঝখানে কিছুটা স্তব্ধ, গভীর জল।
সেই জলে ভাসে কচুরিপানা জীবন।
জন্ম থেকেই কে যেন ফাটল ধরা ভাঙা থেকে
ছিপ ফেলে— বর্শির কঁাটা দিয়ে টানছে তাকে,
ক্ষত-বিক্ষত করছে।
জলের ওপর ভাসছে— যন্ত্রণার লাল রং।