অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণে ইন্দ্রনীল খাঁ, গঠিত হল বিজেপির পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা
কলকাতা, ১০ জুন- লোকভবনে শপথ নেওয়ার দশদিন বাদে অবশেষে দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন ৩৫ জন মন্ত্রী। বুধবার নবান্ন থেকে এই সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। দপ্তর বন্টনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তেমনই নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দপ্তর নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার হাতে রয়েছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর, কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর এবং অন্য কোনও মন্ত্রীকে বণ্টন না করা বাকি সমস্ত দপ্তর। শোনা গিয়েছিল, অর্থ দপ্তর নিজের হাতেই রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে। নতুন মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী সহ মোট ১৯ জন পূর্ণমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এদিন নিউটাউনে রাম মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন শারদ্বতও। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায়। এছাড়াও অচিরাচরিত শক্তি দপ্তরও দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপসকে।

বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, আবাসন দপ্তর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন দীপক বর্মন। আবার উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শ্রম ও পরিবহণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংকে। সংসদীয় বিষয়ক এবং পর্যটন দপ্তর পেয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। বন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন মনোজ কুমার ওরাওঁ। অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন গৌরী শঙ্কর ঘোষ। তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈব প্রযুক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়েছে ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তীকে। সেচ ও জলপথ দপ্তর পেয়েছেন অরূপ কুমার দাস। জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অজয় কুমার পোদ্দার। কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির দীর্ঘদিনের নেতা দুধকুমার মন্ডল।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন মন্ত্রীর মধ্যে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তর এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রাণীসম্পদ বিকাশ এবং মৎস্য চাষ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজেশ মাহাতো। নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি দফতর এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী করা হয়েছে মালতী রাভা রায়কে।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে জুয়েল মুর্মু পেয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ দপ্তর। উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর পেয়েছেন হরে কৃষ্ণ বেরা, পরিবহণ এবং অর্থ দপ্তররের দায়িত্বে আনন্দময় বর্মন, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক এবং পর্যটন দপ্তর পেয়েছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিদ্যালয় শিক্ষা এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন কৌশিক চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে সুমনা সরকার। বিদ্যুৎ এবং অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গার্গী ঘোষ দাস। ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর পেয়েছেন দীপঙ্কর জানা। আবাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন কলিতা মাজি। কৃষি বিপণন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দপ্তরের দায়িত্বে আনা হয়েছে অশোক দিন্দাকে, পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর পেয়েছেন চাঁদ বাউরি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর পেয়েছেন বিশাল লামা, খাদ্য ও সরবরাহ দফতর এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈব প্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। সংসদীয় বিষয়ক এবং নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের দায়িত্বে উমেশ রাই। জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ভাস্কর ভট্টাচার্য। সমবায়, বন এবং পরিবেশ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামী, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন এবং কৃষি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, আইন, বিচার বিভাগীয় এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন বিরাজ বিশ্বাস।