শুক্রবার | ২৯ মে ২০২৬

পয়লা আগস্ট থেকে বাংলায় শুরু জনগণনা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

 পয়লা আগস্ট থেকে বাংলায় শুরু জনগণনা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ২৯ মে- আগামী পয়লা আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে জনগণনা, আজ নবান্ন সভাঘরে জনগণনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত থাকছে সেলফ এনুমারেশন ব্যবস্থা। কাজ চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণনা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বদলেছে জনবিন্যাস। মনে রাখবেন এর সঙ্গে রাজনীতি বা জাতপাতের কোনও সম্পর্ক নেই।’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের গোয়ার্তুমির জন্য আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হতে চলেছে।

            শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে জনগণনা সংক্রান্ত আলোচনার পরে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনা চালু করার জন্য দিল্লি থেকে চিঠি এসেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি, চিঠির জবাবও দেয়নি। পূর্বতন সরকারের ভূমিকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনা চালু করার জন্য দিল্লি থেকে চিঠি এসেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি, চিঠির জবাবও দেয়নি।’

            আগের সরকারের সেই খামতি পূরণ করতে সরকার এবার দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি ১১ মে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার মধ্যে ছিল জনগণনার কাজ শুরু করা।’ আগস্ট মাসে জনগণনা হতে পারে বলে আগেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। শুক্রবারের বৈঠকের পরে সেই ঘোষণাই করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

            তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে জনগণনা। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাসিন্দারা সেলফ এনুমারেশন। গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে আমজনতার যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে চালু করা হচ্ছে হেল্প লাইন নম্বর। দেশব্যাপী যে নম্বরটি চালু করা হবে, সেটি হল ১৮৫৫। চালু করা হবে আরেকটি ল্যান্ড লাইন নম্বর। এছাড়াও চালু করা হয়েছে ওয়েবসাইট। জনগণনা নিয়ে আমজনতার একটা অংশের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘জনগণনা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। বাংলায় শেষ জনগণনা হয়েছে ২০১১ সালে। পূর্বতন সরকার তারপর আর সেন্সাস করেনি। তৎকালীন মুখ্যসচিব সম্মতি দেননি। তবে এখন বাংলার যা পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশকারীদের কারণে যেভাবে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাই জনগণনা জরুরি।’

            প্রসঙ্গত, প্রায় ১৫ বছর পরে অনুষ্ঠিত জনগণনায় এ বার সরকারি কর্মচারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তাঁদের জন্য বিশেষ একটি অ্যাপ থাকবে। সংগৃহীত তথ্য সেই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ সেই অ্যাপ তৈরির কাজ শেষের মুখে।

            জনগণনা নির্বিঘ্নে যাতে সম্পন্ন হয় সেজন্য রাজ্যের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কোনও বেড়া নেই। তাই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে জনবিন্যাসের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে। তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না-থাকলেও আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই জনগণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন প্রচুর বাংলাদেশী জনগণনার ভয়ে পালাচ্ছে। এই মুহূর্তে যারা হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন তাদের কেউ নথি দেখাতে পারবেন না।’    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *