মঙ্গলবার | ২৬ মে ২০২৬

জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট

 জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা, ২৬ মে– ফলতার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরেই এবার অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের। এবার জাহাঙ্গিরের সব রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালত জানিয়েছে, গত ১৮ মে হাইকোর্ট যে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছিল সেটাও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

            ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের মন্তব্যের জন্য বারবার খবরের শিরোনামে এসেছেন ফলতার একসময়ের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির। ২০১৯ সালে এ হেন জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ফলতার ওই তৃণমূল নেতা। ঘটনাচক্রে রক্ষাকবচের মেয়াদ বুধবারই শেষ হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার আবার হাই কোর্টে ওঠে ওই মামলা। সকালে আইনজীবীরা কেউ না-থাকায় মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। অর্থাৎ, বুধবারের আগে যদি মামলায় রক্ষাকবচ শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারিতে বাধা থাকবে না। সেটাই আজ হল।

            ফলতা বিধানসভায় এবারও তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয় জাহাঙ্গির খানকে। কিন্তু ভোটগ্রহণের দিনে বিভিন্ন বুথে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলতায় ফের নির্বাচন চায় বিজেপি। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে ঘোষণা করেন যে, তিনি এই ভোটে লড়বেন না। তার আগে গ্রেফতারি এড়াতে আদালত থেকে রক্ষাকবচ চান। পুনর্নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট থেকে আর একটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। মঙ্গলবার সকালে ওই মামলাটিও শুনানির জন্য ওঠে। রাজ্য পুলিশ রিপোর্ট জমা দেয়। বিচারপতি পার্থসারথি সেনের পর্যবেক্ষণ, মামলাকারীকে ভোটের জন্য অন্তর্বতী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তিনি এফআইআর খারিজ চেয়ে হাই কোর্টে আসেননি। এই অবস্থায় সেই রক্ষাকবচ বহাল থাকার কথাও নয়।

            জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, ওই বিষয়ে জবাবের জন্য সময়ের প্রয়োজন। তার পর দুপুরে আবার ওই মামলার শুনানি শুরু হয়। সেখানেই আদালতের এই নির্দেশ। আদালত সূত্রে খবর, মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আগাম গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই রক্ষাকবচ এ বার তুলে নেওয়া হল।     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *