শনিবার | ২৩ মে ২০২৬

স্বাস্থ্যসাথীর ৬ কোটি গ্রাহক আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

 স্বাস্থ্যসাথীর ৬ কোটি গ্রাহক আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা, ২৩ মে- বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবার নতুন রুটম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকের পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, পূর্বতন সরকারের আমলে যে ৬ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন তাদের সকলকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি। এছাড়াও কেন্দ্রের এই প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করা যাবে।

            কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকার যুক্ত হয়নি। এবার পালাবদলের পরেই বিজেপির সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, আয়ুষ্মান ভারত সহ কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে পশ্চিমবঙ্গ। সেইমতোই এবার স্বাস্থ্যবীমার ক্ষেত্রে এমন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্টভাবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই এ রাজ্যে চালু হতে চলেছে মোদি সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প। একই সঙ্গে রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে চাঙ্গা করতে ন্যাশনাল হেলথ মিশনে ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়া গিয়েছে শনিবার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজকের তার এক চতুর্থাংশ ভারত সরকার ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’

            জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তা প্রতিরোধে ইতিমধ্যে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারই অংশ হিসাবে এবার বাংলায় শুরু হতে চলেছে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি। আগামী ৩০ মে শুরু হবে সেই কর্মসূচি, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রের তরফ থেকে বাংলায় ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হচ্ছে। বিধানননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে শুরু হবে এই টিকাকরণ কর্মসূচি। ১৪-১৫ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনও কিশোরী টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৪ থেকে ১৫ বছরের বালিকাদের এই ডোজ় দিতে পারি আমরা। আগামী ৩০ মে থেকে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে সে দিন আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্প শুরু করব। ৩০ তারিখেই টিবি-মুক্ত ভারতের ওয়ার্কশপ শুরু হবে রাজ্যে।’ রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, আগের সরকার ঠিক ভাবে ‘মনিটরিং’ করেনি। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এ রাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদহ জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’ সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে জনৌষধি কেন্দ্র বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বর্তমানে বাংলায় ১১৭টি রয়েছে। তা বাড়িয়ে ৪৬৯টি করা হবে। দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে ওষুধে ৫০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

            শনিবার দিল্লি-নবান্নের এই ভার্চুয়াল বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবের পাশাপাশি রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব ও প্রধান পরামর্শদাতারা এই পর্যালোচনায় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিগত সরকারের লাগাতার অসহযোগিতা ও বিরোধিতার কারণে বাংলার কোটি কোটি মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি ২০১৬-১৭ সালে তিনি নিজে যখন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখনও ডেঙ্গু-সহ একাধিক জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে তৎকালীন রাজ্য সরকার কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সমন্বয় রাখেনি। এই নেতিবাচক মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে এবার মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, ম্যালেরিয়া এবং ফাইলেরিয়া নির্মূলীকরণের মতো জাতীয় প্রকল্পগুলিকে রাজ্যে পুরোদমে কার্যকর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, তা বাস্তবায়িত করতে কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আসানসোল ও উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও জোরদার করতে নতুন মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব খুব শীঘ্রই কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *