বুধবার | ২৯ এপ্রিল ২০২৬

অবাধ ভোটের নামে অত্যাচার চলছে, অভিযোগ মমতার

 অবাধ ভোটের নামে অত্যাচার চলছে, অভিযোগ মমতার

কলকাতা, ২৯ এপ্রিল- বুধবার সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোট পরিস্থিতি দেখতে বের হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়েই তিনি পৌঁছে যান চেতলার একটি বুথে। সেখানে ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। তারপর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি আজ সারা দিন রাস্তায় থাকব। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নয়, তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বুথ পরিদর্শনকে নজিরবিহীন ঘটনা বলেই মনে করছেন অনেকে। চেতলা থেকে তিনি সোজা চলে যান চক্রবেড়িয়ায়। সেখানে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানকার এক বুথের বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ বসে ছিলেন। কথা বলেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। ওই বুথ ছাড়ার আগে তিনি অভিযোগ করেন, জেলায় জেলায় তার দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তার মন্তব্য, ‘আমরা সকলে চাই নির্বিঘ্নে ভোট মিটুক। তবে বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে এসেছে। তারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাতে সারা বাংলা জুড়ে অত্যাচার করেছে।’ তার দলের কর্মীদের ওপর কীভাবে অত্যাচার হয়েছে তার কিছু ছবিও তুলে ধরেন মমতা। আর বিকেলে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, অবাধ ভোটের নামের দিনভর অত্যাচার চলছে। নির্বান কমিশনের নাম না করে তার প্রশ্ন, ‘ইজ় ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (এটা কি অবাধ শন্তিপূর্ণ নির্বাচন)? জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’ একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে অত্যাচার চলছে।’ তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ‘কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি।’ নিজের বুথের দিকে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে।’ তবে জেতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। ‘ভিক্ট্রি’ (ভি) চিহ্ন দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *